ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট আর অনুদানের জটিলতা! পুজোর মরশুমে তৃণমূলের অন্দরে বড় আর্থিক টানাপোড়েন

উৎসবের মরশুমের ঠিক মুখেই তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে মমতা তৃণমূল। দলের কর্মীদের বেতন এবং অফিসিয়াল বাড়ি ভাড়ার টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আদালতের নিযুক্ত স্পেশ্যাল অফিসার সুব্রত তালুকদারের কমিটি ইচ্ছেমতো সমস্ত টাকা আটকে রেখেছে এবং কোনো অর্থ ছাড়তে চাইছে না। টাকা ছাড়ার আগে স্পেশ্যাল অফিসার বেশ কিছু কড়া প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা তলব করেছেন বলেই খবর।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার আসল কারণ কী?
আইনি জটিলতার জেরে স্পেশ্যাল অফিসার মূলত জানতে চেয়েছেন যে, দলের নাম ও লোগো সংক্রান্ত ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তটি কি কেবল উপনির্বাচনের জন্য, নাকি এর মেয়াদ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। এই জটিল পরিস্থিতির মাঝেই কর্মীদের বেতন ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে নতুন করে তহবিল পাওয়ার আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের কাছে আর্জি জানিয়েছে মমতা তৃণমূল। তবে এই মামলার এখনই কোনো জরুরি শুনানি হচ্ছে না। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আদালতের ছুটির পরই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যের ইতিহাস
প্রসঙ্গত, অবৈধ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট পুলিশ ফ্রিজ করে দিয়েছিল। সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এর আগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল দল। এরপর গত ৯ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার জন্য একজন বিশেষ অফিসার নিয়োগ করেন এবং জানান যে আপাতত অ্যাকাউন্টগুলির ওপর মমতা তৃণমূলের অধিকার থাকলেও তারা লাগামহীনভাবে টাকা খরচ করতে পারবে না।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দলের দৈনিক কাজকর্ম ও কর্মচারীদের বেতনের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ দেওয়ার কথা ছিল স্পেশ্যাল অফিসারের। গত সেপ্টেম্বরে মামলার শুনানিতে আদালতের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানায়, নির্বাচন কমিশন দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও উপনির্বাচনের জন্য একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল। সেই কারণেই আগামী বছর ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী তহবিল পরিচালনার দায়িত্ব বহাল থাকবে। তবে পুজোর মুখে তহবিলের টাকা ছাড়ানো নিয়ে এই নতুন আইনি লড়াই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।