‘ভাড়া করা এক্সক্যাভেটর দিয়ে ৫০ বছরের পুরনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা!’ রাজধানীতে একের পর এক দখল ও হামলায় তোলপাড়

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক হামলা, ভাঙচুর এবং দখলের ঘটনায় নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মাত্র গত সপ্তাহেই পটুয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর হুমকির রেশ কাটতে না কাটতে খোদ ঢাকার বুকে ঘটে যাওয়া দুটি বড় ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। এর মধ্যে একটি ৫০ বছরের পুরনো বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং অন্যটি জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ক্ষোভ: গত শনিবার রাতে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় সুপরিচিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে একদল দুর্বৃত্ত চড়াও হয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরই লাইভে এসে ক্ষোভ উগরে দেন এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। সরাসরি শাসক দলের নেতাকর্মীদের দিকে আঙুল তুলে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ’ দল বলে আখ্যা দেন তিনি। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন যে এই ধরনের ঘটনা এখন বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক বিষয়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং পুলিশের ভূমিকা: এর আগে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিরপুরের সুপরিচিত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি’-র কার্যালয়ে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। দুই নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে একটি পাকা ও তিনটি আধা-পাকা ভবন এক্সক্যাভেটর দিয়ে সম্পূর্ণরূপে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয় এবং জমি দখল করে সাইনবোর্ড বসিয়ে দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই তাণ্ডব চললেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ‘টিআইবি’ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য এক বড় অশনিসংকেত।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও সরকারের প্রতিক্রিয়া: পরিস্থিতি সামাল দিতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে সালমান মুক্তাদিরের আনা চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও অভিযোগ’ বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এর সঠিক তদন্ত করা হবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, দলমত নির্বিশেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।