পদ ছাড়ার জল্পনা উড়িয়ে দিলেন হরিশ রাওয়াত! তবে কী শর্ত দিলেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী?

উত্তরাখণ্ডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর সাম্প্রতিক অভিযানকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তপ্ত রইল জাতীয় রাজনীতি। খোদ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াতের পদত্যাগ করা নিয়ে সকালে তীব্র গুঞ্জন ছড়ায়। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি নিজে দল বা কোনো পদ থেকে ইস্তফা দেননি। তবে একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রাজনৈতিক লড়াই যদি তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে দলের স্বার্থে নিজের সমস্ত পদ ছাড়তে তিনি এক মুহূর্তও দ্বিধা করবেন না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হরিশ রাওয়াত জানান, রাজস্থানের প্রদেশ কার্যনির্বাহী সমিতি এবং এআইসিসি (AICC)-র ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়ার কথা তিনি বিবেচনা করতে পারেন, যদি দেরাদুনে ইডির এই পদক্ষেপের ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তোলা অভিযোগ কোনোভাবে ব্যাকফুটে চলে যায়। কংগ্রেসের প্রতি তাঁর আজীবন নিষ্ঠার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, “আমার রক্ত ও অস্থিতে ছড়িয়ে রয়েছে কংগ্রেসের আদর্শ। এটিই আমার মূল পরিচয়, যা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমার সঙ্গেই থাকবে।” দেরাদুনে ইডির এই হানাকে “ভণ্ডামি ও লোকদেখানো নাটক” বলে আক্রমণ করে তিনি জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের সংগ্রামকে আঘাত করে এমন কোনো কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে চান না।
হঠাৎ কেন এই বিতর্ক? জানা গিয়েছে, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (PA) চন্দন সিং জিনার দেরাদুনের বাসভবনে আচমকা অভিযান চালায় ইডি। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হরিশ রাওয়াত যখন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন চন্দন সিং জিনা তাঁর অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (OSD) হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন। ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত ‘উত্তরাখণ্ড সাবঅর্ডিনেট সার্ভিস সিলেকশন কমিশন’ (UKSSSC) নিয়োগ পরীক্ষায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এই হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। আর এই ঘটনার পরই নিজের দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে রাওয়াতের পদত্যাগের গুঞ্জন জোরালো হয়ে ওঠে। ২০২৭ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই রাজনৈতিক তরজা এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।