“বউ জুতোপেটা করে, অন্য পুরুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলে!” স্বামীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় কানপুর

উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলা থেকে পারিবারিক সম্পর্কের এক চরম নির্মম ও হতবাক করা ছবি সামনে এসেছে। বুধবার কানপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত গণশুনানি চলাকালীন এমন একটি আবেদনপত্র জমা পড়ে, যা উপস্থিত প্রত্যেকের চোখ কপালে তুলে দেয়। ৪১ বছরের বিবাহিত এক প্রৌঢ় স্বামী সরাসরি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেছেন যে, তাঁর নিজের স্ত্রী তাঁকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন, জুতো দিয়ে পেটান এবং প্রতিনিয়ত অকথ্য ভাষায় অপমান করেন। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় স্ত্রীর এমন নৃশংস অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওই অসহায় স্বামী প্রশাসনের কাছে কঠোর হস্তক্ষেপে ন্যায়বিচার ভিক্ষা করেছেন।
খামারবাড়ি বিক্রি ও সন্তানদের মানুষ করার করুণ পরিণতি
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে ওই প্রৌঢ় বেদনাভরা হৃদয়ে লিখেছেন যে, তিনি সারাজীবন নিজের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তুলতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছেন। নিজের মাথার ওপর একটি ছাদ তৈরি করা, সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করা এবং তিন ছেলের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে দিতে তিনি বাধ্য হয়ে নিজের পৈতৃক খামারবাড়িটিও বিক্রি করে দেন। শুধু তাই নয়, পরম ভালোবাসায় তিনি নিজের স্ত্রীর নামে সম্পত্তি ও জমিও কিনে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ সেই স্ত্রীর কাছ থেকেই তাঁকে প্রতিনিয়ত সহ্য করতে হচ্ছে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্বামীর আরও মারাত্মক অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী প্রায়শই তাঁকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করেন এবং একাধিকবার তাঁকে জুতাপেটাও করেছেন।
তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও পরকীয়ার সন্দেহ
চিঠিতে ওই বৃদ্ধ আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর স্ত্রী তাঁকে জোর করে ভিটেমাটি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং সুযোগ পেলেই হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখান। এখানেই শেষ নয়, স্ত্রীর অস্বাভাবিক আচরণ ও অন্য পুরুষদের কাছ থেকে ঘন ঘন ফোন আসার বিষয়টি তাঁর মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। স্ত্রীর এই সন্দেহজনক কার্যকলাপ তাঁকে প্রতিদিন তিলে তিলে এক গভীর মানসিক যন্ত্রণার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ছেলেদের ভূমিকা ও নাইট শেল্টারে দিনযাপন
নিজের বেদনার কথা তুলে ধরে ওই প্রৌঢ় প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন যে, তাঁর স্ত্রীকে থানায় তলব করে যদি কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তবে সমস্ত লুকানো সত্যি নিজে থেকেই বেরিয়ে আসবে। তিনি স্রেফ নিজের শান্তিপূর্ণ বক্তব্যটুকু প্রশাসনের সামনে তুলে ধরতে চান এবং চান যেন উভয় পক্ষের কথা সমানভাবে নিরপেক্ষভাবে শোনা হয়। শুধু স্ত্রীই নন, নিজের ঔরশজাত সন্তানদের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের চরম অমানবিক আচরণ নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, পরিবারের কিছু সদস্য এবং তাঁর নিজের ছেলেরা মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি তাঁর শেষ সম্বল কুঁড়েঘরটি পর্যন্ত জোর করে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁকে বাধ্য করা হয় শহরের পাঙ্কি রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্রে (Night Shelter) গিয়ে আশ্রয় নিতে। বর্তমানে বাধ্য হয়ে ওই ঠান্ডা আশ্রয়কেন্দ্রেই নিজের দিন কাটাচ্ছেন সর্বস্বান্ত ওই বৃদ্ধ।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
চিঠির শেষাংশে ওই প্রৌঢ় স্বামী অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে আবেদন জানিয়েছেন যে, তাঁর স্ত্রী ও অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের সমস্ত জবানবন্দি রেকর্ড করা হোক এবং পুরো ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হোক। গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কানপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং সম্পূর্ণ মামলাটি সরাসরি প্রবেশন বিভাগে স্থানান্তরিত করেছেন এবং দ্রুত এই পারিবারিক সংকটের একটি যথাযথ সমাধানের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।