‘কালীকে তুললেই সব বেরোবে!’ বিধানসভায় হুঙ্কারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি

কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত প্রভাবশালী ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। তারাতলায় বেআইনি গুদামঘরের ছাদ ভেঙে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে নেমে এই গ্রেফতারি ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। মজার বিষয় হলো, ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কালীচরণের নাম নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

বিধানসভায় ‘কালী’ প্রসঙ্গ
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তারাতলা বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন পুরবোর্ডকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বেআইনি ওই বিল্ডিংয়ের অনুমোদনে প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে। এরপরই তিনি সরাসরি ‘কালীচরণ’ বা ‘কালী’-র নাম টেনে বলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশে পুরসভায় কালীকে নিয়োগ করা হয়েছিল। শহরের এমন কোনো বিল্ডিং নেই যার অনুমোদন কালীর অঙ্গুলিহেলনে হতো না।” এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিট কালীচরণকে পাকড়াও করে, যা রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

কে এই ‘সুপার-বাবু’ কালীচরণ?
কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো। মেধাবী এই অফিসার ডব্লিউবিসিএস (WBCS) পরীক্ষায় রাজ্যে দ্বিতীয় এবং ডব্লিউবিপিএস (WBPS) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। ২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম মেয়র হওয়ার পর থেকেই তাঁর ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত কালীচরণ পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন।

পুরসভায় একচ্ছত্র দাপট
পুরসভার অন্দরের খবর অনুযায়ী, কালীর অনুমতি ছাড়া মেয়রের সাথে দেখা করা অসম্ভব ছিল। बिल्डिंग প্ল্যান পাশ থেকে শুরু করে পুরসভার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফাইল—সবই চলত তাঁর ইশারায়। এমনকি কোনো কাউন্সিলর বা শীর্ষ আধিকারিকের সাহস ছিল না তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলার। পুরসভার করিডোরে তাঁকে ‘সুপার-বাবু’ হিসেবেই চিনতেন সবাই। এখন এই প্রভাবশালী ব্যক্তি সিটের হেফাজতে যাওয়ায়, পুরসভার ফাইল ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আর কোন কোন রাঘববোয়ালদের নাম উঠে আসে, সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *