ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বড় ধাক্কা! খাবার অর্ডার করলেই জোম্যাটোর এই নতুন চার্জে পকেট খালি হবে মধ্যবিত্তের?

বাড়িতে বসে পছন্দের খাবার অনলাইনেই অর্ডার করতে ভালোবাসেন, কিন্তু মূল্য মেটানোর ক্ষেত্রে এখনও ক্যাশ অন ডেলিভারি বা সিওডি (CoD)-তেই বেশি ভরসা পান? তাহলে এবার থেকে পকেটে টান পড়তে চলেছে আপনার। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম জোম্যাটো (Zomato) ক্যাশ অন ডেলিভারি অর্ডারে এবার থেকে অতিরিক্ত ফি বা চার্জ নেওয়া শুরু করেছে। ফলে ডেলিভারি বয় খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর নগদ টাকা দিতে গেলেই বিলের সঙ্গে যোগ হচ্ছে এই বাড়তি টাকা।
কত টাকা কাটছে জোম্যাটো?
গ্রাহকদের অ্যাপের বিলের বিবরণী খতিয়ে দেখা গেছে, এই নতুন চার্জটি ‘পে অন ডেলিভারি ফি’ নামে যুক্ত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ক্যাশ অন ডেলিভারি বেছে নিলে এলাকা ও গ্রাহকভেদে ন্যূনতম ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৭ টাকা কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গ্রাহক যদি ইউপিআই (UPI), ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড বা নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে আগেই অনলাইনে বিল পরিশোধ করে দেন, তবে এই বাড়তি ফি দিতে হবে না।
বাড়তি বোঝায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
অনলাইন ফুড প্ল্যাটফর্মে এমনিতেই খাবারের দামের পাশাপাশি ডেলিভারি চার্জ, রেস্তোরাঁর প্যাকেজিং ফি, প্ল্যাটফর্ম ফি এবং তার ওপর প্রযোজ্য জিএসটি মেটাতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট হালকা হয়। তার ওপর নতুন এই ক্যাশ অন ডেলিভারি চার্জ যুক্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন ক্রেতারা। উল্লেখ্য, জোম্যাটো ২০২৩ সালে মাত্র ২ টাকা দিয়ে ‘প্ল্যাটফর্ম ফি’ চালু করলেও ধাপে ধাপে বাড়িয়ে তা ১৪.৯৯ টাকায় (জিএসটি ছাড়া) নিয়ে গিয়েছে। এবার নগদ লেনদেনে এই নতুন ফি যুক্ত হওয়ায় মধ্যবিত্ত গ্রাহকের দৈনন্দিন খাবার খরচে আরও চাপ বাড়ল।
কেন এই সিদ্ধান্ত নিল জোম্যাটো?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুড ডেলিভারির বাজারে প্রতিযোগী সংস্থাগুলোর চাপ বাড়তে থাকায় নিজেদের মুনাফা সুরক্ষিত করতে এবং লেনদেন পরিচালনার খরচ কমাতে এই কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিদিন জোম্যাটো গড়ে প্রায় ২৩ থেকে ২৫ লক্ষ খাবারের অর্ডার সরবরাহ করে। এর মধ্যে ক্যাশ অন ডেলিভারি নেওয়া অর্ডারের সংখ্যা সীমিত হলেও, সামান্য ৫ থেকে ২০ টাকার এই চার্জ দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির কোষাগারে কোটি কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব এনে দিতে পারে।
তাছাড়া, নগদ টাকার হাতবদল, খুচরোর ঝামেলা এবং ডেলিভারি পার্টনারদের নগদ টাকা নিয়ে যাতায়াতের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে গ্রাহকদের অনলাইন পেমেন্টে আরও বেশি উৎসাহিত করাই এই পদক্ষেপের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রতিপক্ষ সুইগি (Swiggy) এখনও পর্যন্ত এমন কোনো সিওডি চার্জ চালু না করলেও, জোম্যাটোর এই সিদ্ধান্তে ক্যাশ ব্যবহারে অভ্যস্ত গ্রাহকদের ওপর যে বাড়তি খরচের খাঁড়া নামল, তা বলাই বাহুল্য।