‘বাড়ির চাকর-বাকরকেও ক্যান্ডিডেট করে দেয়!’ প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে তৃণমূলকে তুলোধনা করলেন দিলীপ ঘোষ

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোরদার তরজা। আর এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই রাজ্যের শাসক দলকে তুলোধনা করলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রবিবার সকালে নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন থেকে শুরু করে জুনপুটের ডিআরডিও (DRDO) প্রকল্প, কলকাতার গণেশ পুজো এবং রাস্তাঘাট ও নাম পরিবর্তন—একাধিক ইস্যুতে সুর চড়ান তিনি।

প্রার্থী ঘোষণা ও তৃণমূলকে আক্রমণ

তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অনেকেই প্রার্থী দেন, যাদের হারার ভয় থাকে, তাঁরা আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করে একটু পাবলিসিটি পাওয়ার চেষ্টা করেন।” তৃণমূলের ‘আসল-নকল’ প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “যে পার্টিকে মানুষ ছেড়ে দিয়েছেন, তার আবার আসল-নকল কী? গত নির্বাচনে তো প্রতীক ছিল, তাও তো হেরে গেছেন। প্রতীক এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”

বিজেপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “বিজেপি একটি সুসংগঠিত দল। একটি উপনির্বাচনের জন্যও আমাদের পার্লামেন্টারি বোর্ডের মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তৃণমূলের সেই চাপ নেই, তারা বাড়ির চাকর-বাকরকেও ক্যান্ডিডেট করে দিতে পারে! আমাদের সমস্ত রীতিনীতি মেনেই প্রার্থী ঠিক হবে এবং আমরাই জিতব। দুর্নীতিবাজ ও চোর-ছে্যাঁচোড় ছাড়া ওদের দলে আর কেই বা আছে? মানুষ একবার রায় দিয়েছেন, আগামীতেও দেবেন।” বামফ্রন্ট ছাড়াই RSP-এর আলাদা প্রার্থী দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “সবাই চায় পার্টির নাম সামনে আসুক, তাই এসব করছে।”

কলকাতা ও বাংলার উন্নয়ন প্রসঙ্গ

কলকাতায় সাম্প্রতিক সময়ে গণেশ পুজোর ব্যাপক বৃদ্ধি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমিও এটা দেখতে পাচ্ছি, ব্যাপকভাবে গণেশ অলিগলিতেও পুজো হচ্ছে। এর জন্য অপেক্ষা ছিল। গণেশ আসলে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে। মহারাষ্ট্র বা গুজরাটের মতো রাজ্যগুলো যেখানে পৌঁছে গেছে দেখুন! আমরা আমিষ খাব না নিরামিষ খাব—এই নিয়ে ঝগড়া করতে করতে আমরা অন্ত্যজ শ্রেণিতে পৌঁছে গেছি। গণেশই আমাদের উদ্ধার করবেন।”

জুনপুটে ডিআরডিও (DRDO) প্রজেক্ট প্রসঙ্গে কেন্দ্র সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির বিস্তার হচ্ছে, ভারত আজ উন্নত রাষ্ট্র হয়ে উঠছে। একটা দিয়ে শুরু হলেও এখন এত টেস্টিং হচ্ছে যে একাধিক রেঞ্জের প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানাব। এর আগে জুনপুট, দেউচাচন্দা বা অশোকনগরে চেষ্টা হলেও লেনদেন বা নানা বাধার কারণে তা করতে দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারই এগুলোকে বাস্তব রূপ দিচ্ছে। ঝাড়গ্রামে ম্যাঙ্গানিজ, পুরুলিয়ায় লিথিয়াম—ভগবানও আমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন।”

নাম পরিবর্তন ও অন্যান্য ইস্যু

তথাগত রায়ের লেনিন সরণির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, “এই ধরনের পরিবর্তনের জন্য বিশিষ্ট মানুষেরা বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। বিশেষ টিম গঠিত হয় এবং তাঁরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। পৃথিবীতে অনেক জায়গার নাম বদলাচ্ছে। কলকাতার অনেক রাস্তা ব্রিটিশদের এবং তাদের চামচা-বেলচাদের নামে রয়েছে, যেগুলো আমাদের গর্বের নয়। যাদের নিজেদের দেশেই কোনো নাম নেই, তাদের মূর্তি বা নাম আমরা এখানে কেন রাখব?”

পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদের সালারে পুলিশ আক্রান্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদ একটি সংবেদনশীল জেলা। বারবার সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী ও সমাজবিরোধীরা মাথাচাড়া দেয়। সিএএ (CAA) আন্দোলনের সময় সেখানে ট্রেন পর্যন্ত পোড়ানো হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।” এছাড়া তৃণমূল আমলের দুর্নীতি ও ভুয়া ডাক্তার বা ভুয়া আইপিএস চক্র নিয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের আমলে এসব বহু হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে এসে অনেকে পঞ্চায়েতের নেতা হয়ে গেছে। এর আরও অনেক সত্য সামনে আসবে।” বাস পার্কিং বিতর্ক প্রসঙ্গেও রাজ্যকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি এই প্রবীণ বিজেপি নেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *