বিজয়ের জোটে বড় ফাটল! বাইরে থেকে সমর্থন দিলেও উপনির্বাচনে কেন একা লড়ার ঘোষণা বামেদের?

তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত শাসক জোটে কি ফাটল ধরতে শুরু করেছে? অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন সরকারকে বাইরে থেকে বাম দলগুলি সমর্থন জুগিয়ে গেলেও, আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভার উপনির্বাচনে তারা সম্পূর্ণ আলাদাভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শাসক জোটের স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বামেদের একক লড়াইয়ের ঘোষণাআগামী ৬ অক্টোবর তামিলনাড়ুর দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এবং ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআইএম) জোটের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঠিক হয়েছে, ধরপুরম কেন্দ্র থেকে লড়বে সিপিআই এবং মাদুরান্তকম কেন্দ্র লড়বে সিপিআই(এম)। সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক এম. বীরপান্ডিয়ান এবং সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক পি. শানমুগম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো নির্বাচনী জোটে শামিল না হয়েই তাঁদের দল একা লড়াই করবে। বাইরে থেকে সমর্থন বনাম জোটে অনীহা যদিও এই দুই বামদলই বর্তমানে বিধানসভায় টিভিকে সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তবে তাদের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করে দিয়েছে যে—সরকার পরিচালনায় বিজয়কে সমর্থন করা আর তাঁর নির্বাচনী জোটে রাজনৈতিক অংশীদার হওয়া এক বিষয় নয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর টিভিকে প্রধান বিজয় সরকারের শরিক দলগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বয় বৈঠক ডাকলেও, সেখানে বয়কট করে অনুপস্থিত ছিল বামেরা। এর আগে জুলাই মাসেও প্রথম সমন্বয় বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছিল তারা। বাম শিবিরের দাবি, সরকার টিকিয়ে রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তি বা বিজেপির পরোক্ষ শাসন রোধ করা। তবে টিভিকে-র নেতৃত্বে কোনো আনুষ্ঠানিক জোটে বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তারা নিজেদের জড়াতে নারাজ। বিশেষ করে সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, বাজেট বরাদ্দ এবং ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে বামেদের সঙ্গে প্রশাসনের তীব্র মতপার্থেক্য তৈরি হয়েছে। আসন্ন উপনির্বাচন এক বড় পরীক্ষা টিভিকে নেতৃত্ব জোটে আসার জন্য বাম দলগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করলেও এবং মন্ত্রী পদের প্রস্তাব দিলেও বামেরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা মন্ত্রীত্ব বা আনুষ্ঠানিক জোটে আগ্রহী নয়। অর্থাৎ, সরকার গঠনে ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা বিজয়কে বাইরে থেকে সমর্থন জুগিয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু নিজেদের রাজনৈতিক সত্তা ও স্বতন্ত্র বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।সব মিলিয়ে, ৬ অক্টোবরের এই উপনির্বাচন কেবল টিভিকে-র নির্বাচনী শক্তির লড়াই নয়, বরং শাসক শিবিরের অন্দরে বিজয়কে সমর্থনকারী দলগুলো রাজনৈতিকভাবে ঠিক কতদূর একসঙ্গে চলতে প্রস্তুত, তারও একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হতে চলেছে।