“হাসিনাকে বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে পাঠিয়ে দিন!” শুভেন্দুকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ইউনুস সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে এবার মুখ খুললেন বাংলাদেশের এনসিপি নেতা তথা ডঃ ইউনূস সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কার্যত উপহাস করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত দাবি করেছেন তিনি।
শুভেন্দুকে নিয়ে কটাক্ষ ও হাসাহাসি
শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসেই উড়িয়ে দেন। সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকেও কি সিরিয়াসলি নিতে হবে?” তাঁর কথায় স্পষ্ট যে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানকে ওপার বাংলার একাংশ গুরুত্ব দিতে নারাজ।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে আসিফ এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একাধিক মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। আমরা যতটুকু জানি, তিনি ভারতেই একরকম অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। শুভেন্দু অধিকারী যদি চান, তাহলে হাসিনাকে বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে পাঠিয়ে দিতে পারেন। তারপরের কাজটুকু আমরাই দেখে নেব।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ‘বুলডোজার’ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফল যে তাঁদের কাছে সুখকর নয়, তা আসিফের কথাতেই স্পষ্ট। তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, ছাব্বিশের নির্বাচনের পর বাংলায় নাকি সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার চলছে। আসিফের দাবি, “পশ্চিমবঙ্গে আমরা বুলডোজার চলতে দেখেছি। সেখানে মুসলমানদের ওপর নৃশংস আক্রমণ ও হামলা হচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি। আমরা যারা নির্যাতিত, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করছি।”
যদিও পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক স্তরে এই ধরণের কোনো বড় সাম্প্রদায়িক ঘটনার খবর মেলেনি, তবে আসিফ মাহমুদ এই ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক মহলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের উচিত কূটনৈতিকভাবে ভারতের কাছে এই নিয়ে সরব হওয়া এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো।”
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও সিএএ প্রসঙ্গ
জেএনইউ (JNU) এবং পশ্চিমবঙ্গের সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আসিফ জানান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের নিরিখে ভারতের জনগণের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। তবে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর ‘রাতের অন্ধকারে পুশব্যাক’ মন্তব্যকে ‘গর্হিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি সাফ জানান, এই ধরণের আচরণ প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।
ওপার বাংলার এই নেতার মন্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা বদল এবং নতুন সরকারের নীতি নিয়ে প্রতিবেশী দেশে গভীর অস্বস্তি ও শঙ্কা দানা বাঁধছে। এবার দেখার, ভারত সরকার বা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া চ্যালেঞ্জের কী উত্তর দেন।