হাসিনার বুদ্ধিতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু? ওপার বাংলায় মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমেদের আজব দাবি ঘিরে তোলপাড়!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফোটাল বিজেপি। প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠন করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর বাংলার এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘিরেই এখন চর্চা তুঙ্গে ওপার বাংলায়। তবে সেই চর্চা কেবল বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা গড়িয়েছে অদ্ভুত সব যুক্তি আর হাস্য়কর দাবিতে। সেই তালিকায় এবার নয়া সংযোজন বাংলাদেশের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অলি আহমেদ।

হাসিনার পরামর্শে জিতেছেন শুভেন্দু?
একসময় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হলেও ইদানীং জামাতপন্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন অলি আহমেদ। চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের নেপথ্যে নাকি রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! অলির দাবি, “হাসিনার পরামর্শেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে এবং মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দুকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে।” উল্লেখ্য, তৃণমূল যেখানে ভোট কুশলী হিসেবে ‘আইপ্যাক’-কে নিয়োগ করেছিল, সেখানে ওপার বাংলার একাংশের দাবি— বিজেপি এবং শুভেন্দুর অদৃশ্য পরামর্শদাতা ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা।

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মনগড়া কাহিনী
শুধু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্বই নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন অলি আহমেদ। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনের পর নাকি পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এমনকি মুসলমানদের গাড়িতে বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো কাল্পনিক ও ভয়াবহ বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি।

আসল সত্য কী?
বাস্তব চিত্র অবশ্য অলির বর্ণনার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটলেও, সেখানে কোনো বিশেষ ধর্মীয় মেরুকরণ ছিল না। সংঘর্ষে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বিজেপি ও তৃণমূল উভয় পক্ষেরই কর্মী রয়েছেন এবং তাঁদের অধিকাংশই সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের। উল্টে ডোমকলে সিপিএম-এর সংখ্যালঘু কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ফলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই বাংলাদেশে বসে এই ধরণের সাম্প্রদায়িক প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

হুমকির মুখে ওপার বাংলার হিন্দুরা
পশ্চিমবঙ্গের জয় নিয়ে বাংলাদেশে এই ধরণের অপপ্রচার নতুন নয়। এর আগেও প্রায় ২৬ লক্ষ ভারতীয়কে বাংলাদেশ থেকে বের করে দেওয়ার মতো আজব দাবি উঠেছে সেদেশে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতনের মনগড়া কাহিনী শুনিয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর পাল্টাপাল্টি অত্যাচারের হুমকি দিচ্ছে ওপার বাংলার কট্টরপন্থী মৌলবাদীরা। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে হাতিয়ার করে প্রতিবেশী দেশের একাংশ এখন ভারত-বিদ্বেষী হাওয়া তুলতে মরিয়া।