বিজেপির শপথ মঞ্চে জিৎ! দিদির পর এবার শুভেন্দুর আমন্ত্রণে সাড়া, জল্পনার আগুনে জল ঢেলে কী বললেন সুপারস্টার?

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিপুল জয়ের পর ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবনের সেই হাই-ভোল্টেজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে দেশের একাধিক ভিভিআইপি-র মেলা বসেছিল। তবে সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন টলিউডের ‘বস’ অর্থাৎ সুপারস্টার জিৎ। কোনো রাজনৈতিক রঙে নিজেকে না রাঙালেও, নতুন সরকারের অভিষেক মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
‘মোদি গ্যারান্টি’-তেই ভরসা জিতের?
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন জিৎ। যা নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়। নতুন সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশা স্পষ্ট করে অভিনেতা লেখেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টির এই জয় কেবল একটি রাজনৈতিক জয় নয়, এটি মানুষের প্রতি এক বড় অঙ্গীকার এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব।’
অভিনেতা তাঁর পোস্টে আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কঠোর পরিশ্রমী এবং ত্যাগী। দেশের উন্নয়নে তাঁদের অনেক অবদান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার সেই ঐতিহ্য ও গৌরব বিশ্ব দরবারে ম্লান হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জিতের কথায়, ‘মোদি গ্যারান্টি’র ওপর বিশ্বাস রেখে তিনি চান, পশ্চিমবঙ্গ আবার তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে পাক। বাংলা যেন আবার ‘সোনার বাংলা’ হয়ে ওঠে, সেই দাবিই কার্যত প্রধানমন্ত্রী ও নতুন সরকারের কাছে রেখেছেন তিনি।
বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন অভিনেতা?
শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠানে জিতের যোগদান এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক দেওয়ার পর টলিপাড়ায় গুঞ্জন শুরু হয়— তবে কি এবার সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামছেন জিৎ? তিনি কি বিজেপি সমর্থক?
এই জল্পনায় জল ঢেলে আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া একটি নোটে জিৎ স্পষ্ট করে দেন তাঁর অবস্থান। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১১ সালে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, সেই অনুষ্ঠানেও তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ, তিনি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছাতার তলায় নেই, বরং রাজ্যের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবেই নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তবে রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, জিতের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের এই ইতিবাচক বার্তা এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আকাঙ্ক্ষা নতুন সরকার তথা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক যাত্রার শুরুতে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে। রুপোলি পর্দার নায়ক যেভাবে বাস্তবের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক দিলেন, তাতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও আরও এক ধাপ বেড়ে গেল।