‘শুভেন্দু বাবা, তুমিই বিচার করো’, মধ্যমগ্রামে নিথর ছেলের দেহের সামনে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি চন্দ্রনাথের মায়ের!

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা তথা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া। তবে শোকের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে নিহতের পরিবারের আর্তনাদ ও বিচার পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। বুধবার রাতে নৃশংসভাবে গুলি চালিয়ে চন্দ্রনাথকে খুনের পর বৃহস্পতিবার সকালে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তাঁর বৃদ্ধা মা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সামনে পেয়েই বিচার চেয়ে কাতর প্রার্থনা করলেন তিনি।

মায়ের বিস্ফোরক দাবি ও আর্তি:
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আজ দিশেহারা মা। একসময় দেশের সেবা করা প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ যে এভাবে নিজের এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারাবেন, তা স্বপ্নেও ভাবেননি পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সকালে যখন শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতৃত্ব নিহতের বাড়িতে পৌঁছান, তখন সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

ছেলের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠেন চন্দ্রনাথের মা। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তিনি বলেন, “শুভেন্দু বাবা, তুমি আমার ছেলের খুনিদের খুঁজে বের করো। ওদের এমন সাজা দাও যাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।” তিনি আরও দাবি করেন, চন্দ্রনাথ কোনোদিন কারোর ক্ষতি করেনি, তাকে পরিকল্পিতভাবে রাস্তা আটকে মারা হয়েছে।

শোকের ছায়ায় পরিবার:
চন্দ্রনাথ রথ শুধুমাত্র শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র মেরুদণ্ড। বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্মী হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল এলাকায়। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অন্ধকারের মুখে। বৃদ্ধা মায়ের একটাই প্রশ্ন—”যারা দেশের সেবা করে এল, তাদের নিরাপত্তা কোথায়?”

তদন্তে সিট (SIT):
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব বিচার করে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে আততায়ীদের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ১০ রাউন্ড গুলি চালিয়ে অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় এই ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত বিজেপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তবে মায়ের সেই বুকফাঁটা আর্তনাদ এখন মধ্যমগ্রামের বাতাসে কেবল একটিই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে—বাংলার এই রাজনৈতিক হিংসার শেষ কোথায়? কমিশনারেট এলাকায় এমন নৃশংস শুঁট আউটের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।