পুরনো ম্যাজিক না ডিজিটাল যুগ? বিশ্বজুড়ে ২৫০০ কোটির দোরগোড়ায় মীরিল স্ট্রিপের নতুন ছবি, ভারতের কালেকশন কত?

২০০৬-এর সেই চেনা গ্ল্যামার আর ‘রানওয়ে ম্যাগাজিন’-এর দাপট কি আজও অমলিন? বক্স অফিসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ফ্যাশন জগতের সেই চিরচেনা আবেদন ডিজিটাল যুগেও দর্শকদের চুম্বকের মতো টেনে আনছে। ডেভিড ফ্র্যাঙ্কেল পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত এই সিক্যুয়েলটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বজুড়ে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে শুরু করেছে।

ভারতের বক্স অফিস রিপোর্ট:
ভারতে ছবিটির যাত্রা শুরু হয়েছিল বেশ আশাব্যাঞ্জকভাবে। প্রথম দিনে ৩.৮০ কোটি টাকা আয় করে দর্শকদের নজর কাড়ে এই ফ্যাশন ড্রামা। সপ্তাহান্তের ছুটিতেও ব্যবসার গ্রাফ ছিল ঊর্ধ্বমুখী; দ্বিতীয় দিনে ৪ কোটি এবং তৃতীয় দিনে ৩.৮৫ কোটি টাকা পকেটে পুরেছে ছবিটি। মূলত পুরনো ছবির নস্টালজিয়া এবং ফ্যাশন দুনিয়ার অন্দরমহল দেখার আগ্রহ থেকেই মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ভিড় উপচে পড়েছিল।

তবে সপ্তাহের কাজের দিন শুরু হতেই আয়ের গতিতে কিছুটা ভাঁটা দেখা দিয়েছে। চতুর্থ দিনে ১.২৫ কোটি এবং পঞ্চম দিনে ১.২০ কোটি টাকা আয়ের পর ষষ্ঠ দিনে অর্থাৎ বুধবারও ছবিটি প্রায় ১.২৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। বর্তমানে ভারতে ছবিটির মোট নেট আয় দাঁড়িয়েছে ১৭.০৫ কোটি টাকা (মোট গ্রস ২০.৩৪ কোটি)।

বিশ্বজুড়ে দাপট:
ভারতের বাজারে ব্যবসা কিছুটা স্থিতিশীল বা ধীরগতির মনে হলেও, আন্তর্জাতিক স্তরে ছবিটি কার্যত ঝড় তুলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদেশের বাজার থেকে ছবিটির আয় ইতিমধ্যেই ১,৫৬৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। উত্তর আমেরিকাতেই এই সিক্যুয়েল ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসা করেছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় নজরকাড়া। অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে আয়ের পরিমাণ ১৫৬ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বাজেট ও বাণিজ্যিক সাফল্য:
১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেটে তৈরি এই ছবিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ২,৪৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যবসা করে ফেলেছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের যুগে গ্ল্যামার দুনিয়ার টিকে থাকার লড়াই এবং রানওয়ে ম্যাগাজিনের সেই টানটান গল্প দর্শকদের ফেরাতে সফল হয়েছে। একে ইতিমধ্যেই ‘মেগা হিট’ বা বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।