শুঁটআউট রহস্যে শিলিগুড়ি কানেকশন! শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি কার? আসল মালিকের দাবিতে তোলপাড় রাজ্য

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর মোড়। বুধবার রাতে মাঝরাস্তায় গাড়ি আটকে যেভাবে তাঁকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে সুগভীর ষড়যন্ত্র ও নিপুণ পরিকল্পনা। ঘাতক গাড়িটি থেকে শুরু করে তার নম্বর প্লেট—প্রতিটি পদক্ষেপেই দুষ্কৃতীরা পেশাদারিত্বের ছাপ রেখেছে বলে মনে করছে পুলিশ।
ঘাতক গাড়ির রহস্য ও শিলিগুড়ি যোগ:
তদন্তে নেমে পুলিশ যে গাড়িটিকে ঘিরে সন্দেহ করছে, তার নম্বর প্লেটটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়ো। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই নম্বরের গাড়িটি শিলিগুড়ির আরটিও-তে (RTO) রেজিস্টার্ড। তদন্তকারীরা দ্রুত শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানায় যোগাযোগ করে গাড়ির আসল মালিক উইলিয়াম জোশেফকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জোশেফ জানিয়েছেন, তাঁর গাড়িটি শিলিগুড়িতেই তাঁর কাছে রয়েছে এবং তিনি সেটি বিক্রির জন্য ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। পুলিশের অনুমান, অপরাধীরা সুপরিকল্পিতভাবে জোশেফের গাড়ির মডেল এবং নম্বর প্লেট হুবহু নকল করে এই অপারেশন চালিয়েছে।
প্রমাণ লোপাটের মরিয়া চেষ্টা:
দুষ্কৃতীরা এতটাই সতর্ক ছিল যে, অপরাধে ব্যবহৃত গাড়িটির চেসিস নম্বর পর্যন্ত ঘষে তুলে ফেলা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই সেটিকে শনাক্ত করা না যায়। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, এটি কোনো আকস্মিক হামলা ছিল না বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল।
ছয় ঘণ্টা ধরে ‘রেকি’ ও রুদ্ধশ্বাস অপারেশন:
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। জানা গিয়েছে, খুনের ঘটনার প্রায় ৬ ঘণ্টা আগে থেকেই ঘাতক গাড়িটি এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। এমনকি চন্দ্রনাথের বাড়ির সামনেও বেশ কয়েকবার সেটিকে দেখা গিয়েছে। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ চন্দ্রনাথ যখন গাড়ি নিয়ে ফিরছিলেন, তখন পিছন থেকে ধাওয়া করে ওই রহস্যময় গাড়িটি। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় পৌঁছাতেই হঠাৎ চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে সেটি। এরপর তিন দিক থেকে ঘিরে ধরে শুরু হয় মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ। এলাকায় অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে খবর।
তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT):
শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে ইতিমিধ্যেই সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। বাইকে করে আগে থেকে অনুসরণ করা এবং মাঝরাস্তায় গাড়ি আটকে ঠান্ডা মাথায় খুন—পুরো বিষয়টিই ‘প্রফেশনাল কিলার’ বা ভাড়াটে খুনিদের কাজ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আপাতত শিলিগুড়ির ওই গাড়ি মালিকের বয়ান ও এলাকার সিসিটিভি ফুটেজকে সম্বল করেই খুনিদের নাগাল পেতে মরিয়া রাজ্য পুলিশ।
নির্বাচনী আবহে এই হত্যাকাণ্ড উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে। অপরাধীরা কেন শিলিগুড়ির একটি গাড়ির নম্বর প্লেট ব্যবহার করল, তার উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।