২০৩০ সালের মধ্যেই ২৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে ভারতের হোম মার্কেট! জানুন অবাক করা তথ্য

ঘরের ইন্টেরিয়র বা ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কেনার অভ্যাস বদলে যাচ্ছে ভারতীয়দের। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্রেতা এখন দোকান ঘুরে দেখার আগে সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে ঘর সাজানোর আইডিয়া ও জিনিসপত্র পছন্দ করছেন। অর্থাৎ, মানুষ এখন নিজেদের ঘরের জন্য কী কিনবেন, তা ঠিক করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছেন। ডেলয়েট ইন্ডিয়ার (Deloitte India) সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ডিজিটাল বিপ্লব ও কমবয়সি ক্রেতাদের দাপট এই পুরো ট্রেন্ডের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছেন দেশের কমবয়সি এবং টেক-স্যাভি ক্রেতারা। অতীতে সাধারণত মানুষের বয়স যখন ৪০-এর কোঠায় পৌঁছাত, তখন তারা প্রথম বাড়ি কেনার কথা ভাবতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই গড় বয়স কমে সোজা ৩০-এর কোঠায় নেমে এসেছে।
কেনাকাটার এই পরিসরে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাবও ব্যাপক। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ ক্রেতা সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রিয়েটরদের দেখে অনুপ্রাণিত হন। অন্যদিকে, ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের মধ্যে এই হার মাত্র ২৭ শতাংশ। ফলে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, জেনারেশন জি এবং মিলেনিয়ালরাই হোম মার্কেটের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
দোকানে গিয়েও অনলাইনে দাম মেলানোর প্রবণতা রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রেতারা এখন অনেক বেশি সচেতন ও স্মার্ট। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ দোকানে গিয়ে পণ্য দেখার সময়ও হাতে মোবাইল খুলে ই-কমার্স অ্যাপে রিভিউ পড়ছেন, দাম মেলছেন এবং বিভিন্ন ক্যাশব্যাক বা অফার খতিয়ে দেখছেন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ক্রেতাদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। যেসব রিটেলার এই প্রযুক্তিগুলি ব্যবহার করছেন, তাঁদের বিক্রি প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
টিয়ার-২ শহরেও বাড়ছে বাজার এই পরিবর্তনের ঢেউ শুধু মেট্রো সিটি বা বড় শহরের মধ্যেই আটকে নেই। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, টিয়ার-২ শহরের পরিবারগুলোও ঘরের ইন্টেরিয়রের পেছনে গড়ে ৩.৯ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে, যা টিয়ার-১ শহরের খরচের প্রায় ৭৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বাজার ১.৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৬০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।