জলের মধ্যে তামান্নার মর্মান্তিক কাণ্ড! সিদ্ধার্থের সেই উদ্ধার করার শ্যুটিংয়ে আসলে কী ঘটেছিল পর্দার পেছনে?

সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং তামান্না ভাটিয়া জুটির নতুন ছবি ‘দ্য ভ্বান: ফোর্স অফ দ্য ফরেস্ট’ মুক্তির পর থেকেই চরম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ছবির অ্যাকশন বা থ্রিলারের পাশাপাশি বর্তমানে নেটদুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে এর একটি বিশেষ দৃশ্য নিয়ে। ছবিতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ছট পুজো উদযাপনের একটি দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যেখানে তামান্না অভিনীত চরিত্রটিকে পুজো করতে দেখা যায়। গানে দেখা যায়, সিঁড়িতে মাথা লেগে তামান্না জলে পড়ে যান এবং সিদ্ধার্থ মালহোত্রা তাঁকে জল থেকে উদ্ধার করেন। এবার সেই দৃশ্যটি শ্যুট করার পেছনের অবিশ্বাস্য চ্যালেঞ্জ ও অজানা গল্প ফাঁস করলেন ছবিটির চিত্রগ্রাহক মনু আনন্দ।
নেপথ্যের আসল রহস্য ফাঁস করলেন চিত্রগ্রাহক ছবির সিনেমাটোগ্রাফার মনু আনন্দ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ছাঠি মাইয়া’ গানের একটি বিটিএস (Behind the Scenes) ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কীভাবে বিশাল ও জমকালো সেটে এই কঠিন দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছিল। ক্যামেরার পেছনের কড়া পরিশ্রম, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং জলে শুট করার সময়কার টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে সামলানো হয়েছিল, তার একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে ওই ফুটেজে। ছট পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের জাঁকজমক ধরে রাখতে পুরো টিমকে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, তা এই বিটিএস ভিডিও দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
শ্যুটিংয়ের সময় কেন কেঁদে ফেলেছিলেন তামান্না? ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে তামান্না ভাটিয়া নিজেই এই গানটি নিয়ে তাঁর আবেগের কথা শেয়ার করেছিলেন। তিনি জানান, মুম্বইয়ে বড় হয়ে ওঠার কারণে ছোট থেকেই জুহু সৈকতে প্রচুর মানুষকে ছট পুজো করতে দেখেছেন তিনি। কিন্তু এই উৎসবের আসল রীতিনীতি বা কঠোর অনুশাসন সম্পর্কে তাঁর কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। শ্যুটিং করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, ভক্তরা কীভাবে ৩৬ ঘণ্টা জল না খেয়ে এই ব্রত পালন করেন।
অভিনেত্রী জানান, জলের সেই মর্মান্তিক দৃশ্যটি শ্যুট করার সময় তিনি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছিল। তামান্নার ভাষায়, “আমি জানি না কেন, তবে শ্যুটিংয়ের সময় হঠাৎই আমার চোখে জল চলে আসে। শিল্পী হিসেবে আমরা কেবল একটি মাধ্যম, আর আমাদের ভেতরের অনুভূতিগুলোই আমাদের দিয়ে এমন অভিনয় করিয়ে নেয়।” সবমিলিয়ে, পর্দার পেছনের এই টানটান উত্তেজনা ও আবেগই গানটিকে দর্শকদের মনে এক অন্য জায়গা করে দিয়েছে।