চল্লিশেই হাঁটু ধরছে কাঁপন? বার্ধক্যে বিছানায় পঙ্গু হয়ে থাকার ঝুঁকি এড়াতে আজই এই ৫ অভ্যাস করুন!

চল্লিশের কোঠা ছুঁতে না ছুঁতেই সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার সময় হাঁটুতে চিনচিনে ব্যথা বা কটকট শব্দ—আজকের দিনে অত্যন্ত পরিচিত এক সমস্যা। অথচ একটা সময় মনে করা হতো, হাঁটুর ব্যথা কেবল বার্ধক্যের সঙ্গেই যুক্ত। আধুনিক জীবনযাত্রার ভুলভ্রান্তি, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘক্ষণ কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনযাপনের কারণে এখন তরুণ প্রজন্মও এই ব্যথার শিকার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো সচেতন না হলে এই সামান্য জয়েন্ট পেনই ভবিষ্যতে হাঁটার ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে। ডেইলি হান্টের পাঠকদের জন্য রইল চল্লিশের কোঠায় হাঁটু সুস্থ রাখার সহজ কিছু কার্যকরী উপায়।
১. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
হাঁটু হলো শরীরের ভারবহনকারী প্রধান অঙ্গ। শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তার পুরো চাপ গিয়ে পড়ে হাঁটুর জয়েন্ট বা সংযোগস্থলের ওপর। প্রতি এক কেজি ওজন বাড়লে হাঁটুর ওপর চারগুণ বেশি চাপ পড়ে। তাই সুষম খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সবার আগে জরুরি।
২. নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং ও এক্সারসাইজ
সারাদিন একটানা ডেস্কে বসে কাজ করার ফলে পেশিগুলো শক্ত হয়ে যায়। হাঁটু সচল রাখতে সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো কিংবা হালকা ইয়োগা বা স্ট্রেচিং করা অত্যন্ত উপকারী। এটি হাঁটুর চারপাশে থাকা পেশিগুলোকে শক্তিশালী করে তোলে।
৩. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর করা
হাড়ের স্বাস্থ্য মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি-এর বিকল্প নেই। সূর্যের আলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি সংগ্রহ এবং দুধ, দই, সবুজ শাকসবজির মতো ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
৪. সঠিক জুতো নির্বাচন
অফিস বা বাইরে হাঁটার সময় আরামদায়ক এবং ফ্ল্যাট বা কুশনিংযুক্ত জুতো পরা উচিত। হাই হিল বা অতিরিক্ত শক্ত সোলের জুতো পরলে পায়ের পাতার ভুল ভঙ্গির কারণে সরাসরি হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে, যা জয়েন্টের ক্ষতি করে।
৫. জল খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানো
শরীরের জয়েন্টগুলোতে লুব্রিকেন্ট বা তরল পদার্থের জোগান ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা আবশ্যক। জল কম খেলে জয়েন্টগুলোর ঘর্ষণ বাড়ে এবং ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে।
বয়স বাড়লেও হাঁটু যেন আপনাকে কাবু করতে না পারে, সেজন্য জীবনযাত্রায় আনতে হবে ছোট্ট কিছু পরিবর্তন। সচেতনতাই পারে বার্ধক্যেও আপনাকে সাবলীল ও সচল রাখতে।