ডিম তো রোজ খাচ্ছেন, তবে কি সঠিক নিয়মটা জানেন? পুষ্টিবিদরা বলছেন ডিম খাওয়ার এটাই সেরা পদ্ধতি!

সুস্থ থাকতে এবং প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের কোনো বিকল্প নেই। সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে রাতের ডিনার—বাঙালির পাতে ডিম থাকা যেন এক প্রকার বাধ্যতামূলক। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ডিম তো আমরা নানাভাবে খেয়ে থাকি—সেদ্ধ, পোচ, অমলেট কিংবা কারি—তবে এর মধ্যে কোন পদ্ধতিতে ডিম খাওয়া শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী?
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, রান্নার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে ডিমের পুষ্টিগুণ অনেকটাই বদলে যায়। ডিম খাওয়ার সেরা পদ্ধতি এবং কোন উপায়ে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার মিলবে, তা একনজরে দেখে নিন:
সেদ্ধ ডিম (Boiled Egg – সেরা পদ্ধতি): পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ডিম খাওয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর এবং সেরা উপায় হলো ডিম সেদ্ধ করে খাওয়া। এতে কোনো অতিরিক্ত তেল, মাখন বা ক্ষতিকারক ফ্যাট যোগ করার প্রয়োজন হয় না। ফলে ডিমের মধ্যে থাকা সমস্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস কোনো রকম নষ্ট না হয়ে সরাসরি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।
পোচ বা ভাজা ডিমের ক্ষতিকারক দিক: ডিমের পোচ বা অমলেট বানাতে প্রচুর তেল বা মাখন ব্যবহার করা হয়, যা শরীরে ক্যালোরি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত আঁচে ডিম ভাজলে বা অমলেট করলে তার ভেতরের ভালো ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নষ্ট হয়ে যায়।
ডিম সেদ্ধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম: ডিম সেদ্ধ করার সময় খুব বেশি সময় ধরে ফোটানো উচিত নয় (১০-১২ মিনিটের বেশি নয়), কারণ অতিরিক্ত ফোটালে কুসুমের চারপাশে একটা সবুজ আস্তরণ পড়ে যায় যা হজমে সামান্য সমস্যা করতে পারে। হার্ট ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হালকা নুন ও গোলমরিচ গুঁড়ো ছড়িয়ে সেদ্ধ ডিম খাওয়াটাই সবচেয়ে আদর্শ।
তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তেল-মশলাযুক্ত অমলেটের বদলে সেদ্ধ ডিমকেই বেশি গুরুত্ব দিন, যা আপনাকে রাখবে চাঙ্গা ও সম্পূর্ণ সুস্থ!