ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলম্বিয়া! রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৭.৪, জরুরি অবস্থা ঘোষণা নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের

শক্তিশালী ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে কেঁপে উঠল কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। পশ্চিম কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৭.৪ রেকর্ড করা হয়েছে। কম্পনের জেরে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে বহু বাড়ি। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার।
ভূমিকম্পের উৎসস্থল ও বিস্তৃতি
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা (USGS) সূত্রে জানা গিয়েছে, কলম্বিয়ার স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার দুপুর) এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। চকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল।
কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, শুধু কলম্বিয়াই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর এবং পানামাতেও এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে। রাজধানী বোগোটা সহ বিভিন্ন শহরে আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের আশঙ্কা
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৮৭ জন। ভেঙে পড়েছে ৬১টিরও বেশি বাড়ি ও বহু পরিকাঠামো। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সদ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হলো এসপ্রিয়েলার প্রশাসন।
বিমান চলাচল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব
ভূমিকম্পের জেরে দেশের যোগাযোগ ও পরিকাঠামো ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। পেরেইরা, মানিজালেস, আর্মেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাভেনতুরা—এই পাঁচটি প্রধান বিমানবন্দরে নিয়মিত যাত্রী পরিষেবা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলি কেবল জরুরি চিকিৎসা ও সরকারি উড়ানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ক্ষয়ক্ষতির জেরে দেশের সমস্ত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।