‘কাটমানি নিলেই সোজা জেল!’ বাগুইআটিতে দাবাং মুডে থানাের আইসি ও বিধায়ক তরুণজ্যোতি, শোরগোল এলাকায়

বিধাননগর পৌরনিগম এলাকায় সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে কাটমানি বা তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। এই বার্তা স্পষ্ট করে দিতে পৌরসভার ৬০ জন ঠিকাদারকে ডেকে পাঠালেন আইনজীবী তথা রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। প্রশাসনের আধিকারিকদের সামনে রেখেই ঠিকাদারদের একহাত নেন তিনি এবং কাজ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
বাগুইআটিতে বিশেষ বৈঠক ও বিধায়কের কড়া বার্তা
বাগুইআটি থানা এলাকার একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে পৌরসভার প্রায় ৬০ জন ঠিকাদারকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। রাস্তাঘাট নির্মাণ হোক, পানীয় জল সরবরাহ কিংবা আলোকায়ন—পৌরসভার কোনো উন্নয়নমূলক কাজেই আর কোনোভাবেই কাটমানি বা অতিরিক্ত তোলা দেওয়া-নেওয়া চলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। তৃণমূল জমানায় এই পৌরনিগমে কাটমানি ছাড়া ফাইল নড়ে না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সংস্কৃতি বদলাতেই এবার মাঠে নেমেছেন বিধায়ক।
বৈঠকে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, “এই টাকা আমারও নয়, আপনারও নয়—প্রত্যেক করদাতার টাকা। যিনি প্রত্যক্ষ ট্যাক্স দেন তাঁরও টাকা, একজন গরিব মানুষ আমূল দুধের প্যাকেট কিনছেন তাঁরও টাকা। মানুষের টাকা নিয়ে মানুষের কাজ হবে। কেউ সেই টাকা মেরে চলে যাবে, সেই দিন শেষ। যেমন আপনারা নিয়মমতো পেমেন্ট বুঝে নেবেন, তেমনই রাস্তাঘাট তৈরির গুণগত মানও আমাদের বুঝে নিতে হবে। কোনো গোলমাল হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
পুলিশের দাবাং হুংকার
এদিন শুধু বিধায়কই নন, একই সুরে কড়া বার্তা দিয়েছেন বাগুইআটি থানার আইসি (IC)-ও। কাটমানি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কাটমানি নিলেই সোজা জেল এবং তোলাবাজি করলেই আইনি কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধায়ক এবং পুলিশের এই যৌথ ও কঠোর পদক্ষেপে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে বিধাননগর পৌরনিগম এলাকায়।