দাঁতের গোড়ার খয়েরি দাগ নিয়ে হাসতে লজ্জা পান? এই ৫টি ঘরোয়া টোটকা জানলে ডেন্টিস্টের কাছে যেতেই হবে না!

নিয়মিত দিনে দু’বার দাঁত মাজা সত্ত্বেও অনেকেরই দাঁতের গোড়ায় বা দু’টি দাঁতের মাঝখানে এক ধরণের জেদি খয়েরি বা কালচে দাগ জমে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ডেন্টাল ক্যালকুলাস (Dental Calculus) বা টারটার (Tartar)। মূলত লালার রসের খনিজের সঙ্গে প্লাক জমে এই শক্ত আস্তরণ তৈরি হয়। এর ফলে মুখের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হয়, তেমনই মাড়ির রোগ বা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধের মতো সমস্যাও দেখা দেয়। পার্লারে বা ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে স্কেলিং করাতে খরচ হয় হাজার হাজার টাকা। তবে আপনি চাইলে ঘরেই কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের এই জেদি খয়েরি দাগ দূর করতে পারেন।
দাঁতের খয়েরি দাগ তোলার ৫টি সহজ ঘরোয়া উপায়
১. বেকিং সোডা এবং লেবুর রস: এক চিমটি বেকিং সোডার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি টুথব্রাশে লাগিয়ে আলতোভাবে দাঁতে ঘষে নিন এবং ১ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডার প্রাকৃতিক স্ক্রাবিং এবং লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড দাঁতের দাগ তুলতে দারুণ কার্যকরী। তবে সপ্তাহে দু’বারের বেশি এটি ব্যবহার করবেন না।
২. নারকেল তেল দিয়ে পুলিং (Oil Pulling): সকালে খালি পেটে এক চামচ খাঁটি নারকেল তেল মুখে নিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধরে কুলকুচি বা মুখেই ঘোরাতে থাকুন (যাকে অয়েল পুলিং বলা হয়)। এরপর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। নারকেল তেলে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের প্লাক ও দাগ দূর করতে এবং মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
৩. স্ট্রবেরি ও লবণের জাদুকরী প্যাক: একটি পাকা স্ট্রবেরি ভালো করে চটকে তার সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে নিন। এই পেস্টটি দাঁতে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিন এবং তারপর ব্রাশ করে ধুয়ে ফেলুন। স্ট্রবেরিতে থাকা ম্যালিক অ্যাসিড (Malic Acid) প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের হলুদ বা খয়েরি আস্তরণ দূর করতে সাহায্য করে।
৪. নিম পাতার পেস্ট: নিমের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ সম্পর্কে আমরা সকলেই কমবেশি জানি। কয়েকটি টাটকা নিম পাতা বেটে বা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করলে বা পেস্ট বানিয়ে দাঁতে লাগালে দাঁতের গোড়ার খয়েরি দাগ এবং মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।
৫. অরেঞ্জ পিল বা কমলার খোসা: কমলার খোসার ভেতরের সাদা অংশটি দিয়ে নিয়মিত রাতে ঘুমানোর আগে দাঁতে আলতো করে ঘষুন। কমলার খোসায় থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দাঁতের এনামেলের ক্ষতি না করেই দাগ তুলতে সাহায্য করে।
বিশেষ সতর্কতা: ঘরোয়া এই উপায়গুলো নিয়মিত মেনে চললে উপকার পাওয়া যায়, তবে মনে রাখবেন খুব বেশি জোর দিয়ে দাঁতে ঘষাঘষি করবেন না, এতে দাঁতের ওপরের আস্তরণ বা এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সমস্যা অনেক বেশি গুরুতর হলে অবশ্যই কোনো অভিজ্ঞ ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।