ডিমের কুসুমের তৈরি এই গোপন তেলটির কথা জানেন? রূপচর্চায় ব্যবহার করলেই ত্বকে আসবে জাদুকরী জেল্লা!

ছোটবেলা থেকেই আমাদের পাতে ডিমের গুণের কথা নানাভাবে বলা হয়েছে। ওমলেট হোক কিংবা ভাপা—ডিমের নানা সুস্বাদু পদ আমরা তৃপ্তি করে খেয়ে থাকি। কিন্তু আপনি কি ‘এগ অয়েল’ (Egg oil) বা ডিমের কুসুম থেকে তৈরি এই জাদুকরী তেলের কথা জানেন? অনেকের কাছেই নামটি নতুন ঠেকলেও এর ইতিহাস বেশ পুরোনো। প্রাচীন গ্রিক পুরাণেও নাকি এই তেলের উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ডিমের কুসুমের নির্যাস থেকে এই বিশেষ তেল তৈরি করা হয়। পরিমাণের দিক থেকে তেলটি বেশ মূল্যবান, কারণ মাত্র ১৫০ গ্রাম (৫ আউন্স) তেল তৈরি করতে প্রায় ৫০টি ডিমের কুসুমের প্রয়োজন হয়। ডিমের মতো এর গুণাগুণও কিন্তু অত্যন্ত চমৎকার।
এগ অয়েলের ৫টি অসাধারণ উপকারিতা
১. ত্বকের রুক্ষতা ও শুষ্কতা দূর করে: ডিমের কুসুমের নির্যাস থেকে তৈরি এই তেলে ভরপুর মাত্রায় থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে। শীত হোক কিংবা গরম—ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা দূর করে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও মসৃণ ভাব ফিরিয়ে আনে।
২. ব্রণ ও জেদি দাগছোপ দূর করে: এগ অয়েলে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান। ফলে নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের জেদি দাগছোপ হালকা হতে শুরু করে। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ব্রণর সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই তেল বেশ কার্যকরী।
৩. চুলের যত্নে অব্যর্থ: ত্বকের পাশাপাশি চুলের হরেক সমস্যায় এই তেল দারুণ কাজ দেয়। প্রথমে চুলের গোড়ায় ও স্ক্যাল্পে তেলটি ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিন। এরপর গরম জলে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে তা দিয়ে মাথা কিছুক্ষণ জড়িয়ে রাখুন। এই পদ্ধতিতে পরিচর্যা করলে খুশকির সমস্যা যেমন দূর হয়, তেমনই চুল পড়াও কমে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
৪. রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়: শরীরে বা মুখে এই তেল মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালনের গতি বৃদ্ধি পায়। আর রক্ত চলাচল ঠিকঠাক হলে ত্বকের ভেতরের প্রাকৃতিক জেল্লা বা গ্লো দ্বিগুণ হয়ে যায়।
৫. তারুণ্য ধরে রাখে ও বয়সের ছাপ কমায়: বয়সের প্রাথমিক ছাপ রুখে দিয়ে যৌবন ধরে রাখতে ডিমের কুসুমের তেল এক দারুণ দাওয়াই। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘B3’, ‘A’ এবং ‘E’। ফলে নিয়মিত এই তেল মালিশ করলে ত্বক ঝুলে পড়ে না, বরং কোষগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পায়।
সবচেয়ে বড় সুবিধা
অনেকেরই মুরগির ডিম খেলে গায়ে অ্যালার্জি বা র্যাশ বের হওয়ার সমস্যা থাকে। তবে নিশ্চিন্তে থাকুন, এই তেল ব্যবহারে সেই ভয় নেই। প্রক্রিয়াকরণের সময় এর অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানগুলো নষ্ট হয়ে যায়, ফলে অ্যালার্জির সমস্যা থাকলেও এই তেল অনায়াসে ব্যবহার করা যায়।