গর্ভাবস্থায় নিয়মিত অফিস যাওয়া কি নিরাপদ? কি বলছে গাইনিকোলজিস্ট

১. প্রেগন্যান্সিতে কতদিন পর্যন্ত অফিসে যাওয়া যায়?​
ডা: জয়তী মণ্ডলের কথায়, এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনও গাইডলাইন কোথাও দেওয়া নেই। তবে অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, সন্তানধারণের পর ৩৮ সপ্তাহ পর্যান্ত অনায়াসে অফিস করা যায়। তবে ৩৮ সপ্তাহ পর্যন্ত অফিস তাঁরাই যেতে পারবেন যাঁদের লো রিস্ক প্রেগন্যান্সি রয়েছে। এক্ষেত্রে আইভিএফ করা হয়েছে, মায়ের ব্লাড প্রেশার, ব্লাড সুগার রয়েছে, ব্লিডিং হচ্ছে বা অন্য কোনও জটিলতা থাকলে অনেক আগেই অফিস যাওয়া বন্ধ করতে হবে।

তবে যাঁদের লো রিস্ক প্রেগন্যান্সি রয়েছে, তাঁরাও অফিস যেতে হলে এই কয়েকটি নিয়ম অবশ্যই মেনে চলুন। নইলে বিপদে জড়াতে সময় লাগবে না। নিয়মগুলি হল…

২. বেশি জার্নি নয়​
এক্ষেত্রে বাড়ি থেকে অফিস অনেকটা দূরে হলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যদি বাড়ি থেকে অফিসের দূরত্ব ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে হয়, তাহলে কর্মস্থলে যেতেই পারেন। তবে এক্ষেত্রে অটো বা বাইক চেপে অফিস যাবেন না। এই ধরনের বাহনে বিপদের আশঙ্কা বেশি। এমনকী এগুলিতে চাপলে অতিরিক্ত ঝাঁকুনি লাগে যা মা ও গর্ভের সন্তানের জন্য খারাপ। তাই গাড়ি, বাস বা ট্রেনে চেপে অফিস যান।

৩. বেশিক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা চলবে না
গর্ভাবস্থায় পা ফুলে যায় অনেকের। এমন সমস্যা থেকে বাঁচতে চাইলে একনাগাড়ে বেশিক্ষণ দাঁড়াবেন না। এমনকী দীর্ঘসময় বসে থাকাও চলবে না। আর বসার সময় অবশ্যই পায়ের তলায় একটা ছোট টুল জাতীয় কিছু রাখুন। এর উপর পা তুলে বসুন। এতে পা ফোলার সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবেন।

এছাড়া এই সময়ে সিঁড়ি ভাঙা একবারেই উচিত নয়। এতে ভ্রূণের ক্ষতি হতে পারে। তাই দিনে একবারের বেশি সিঁড়ি ওঠা নামা করা চলবে না।

​৪. টিফিন ব্যাগ সঙ্গে রাখুন​
এই সময় শরীরে ক্যালোরি, ভিটামিন, খনিজ ও সমস্ত ধরনের পুষ্টি উপাদানের চাহিদা থাকে কয়েকগুণ বেশি। তাই অফিসে যেতে হলে টিফিন ব্যাগটা ঠিকমতো গুছিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে টেবিলের পাশে খাবারের ব্যাগ রেখে কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর খেতে হবে। এতেই উপকার পাবেন। আর অবশ্যই অফিসের ব্যাগে জলের বোতল থাকা চাই। সারাদিন জলে চুমুক দিতে থাকুন। এর মাধ্যমেই শরীরে জলের ঘাটতি এড়ানো যাবে।

৫. স্ট্রেস নিলেই ফেঁসে যাবেন​
কাজের জায়গায় চাপ থাকবেই। তবে সেই নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে একাধিক সমস্যা ডেকে আনবেন না। বরং চেষ্টা করুন স্ট্রেস ফ্রি থাকার। এক্ষেত্রে কাজ করতে করতেই ডিপ ব্রিদিং বা মাইন্ড ফুলনেস অভ্যাস করুন। এতেই দেখবেন দুশ্চিন্তাকে হেলায় হারিয়ে দিতে পারবেন। ভালোয় ভালোয় কেটে যাবে এই সময়টা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *