প্রস্রাবের রং ধূসর হলেই সোজা যান চিকিৎসকের কাছে! নয়তো বিপদ হতে পারে

১. ইউটিআই নিয়ে সাবধান

​ওয়েব মেড জানাচ্ছে, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই-এর কারণে অনেক সময় এমন সমস্যা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ব্লাডার, কিডনি বা ইউরেথ্রায় হয় ইনফেকশন। প্রস্রাব ধূসর হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই কয়েকটি লক্ষণও থাকে, যেমন-
১. প্রস্রাবের সময় যন্ত্রণা
২. জ্বালা
৩. না চাইলেও প্রস্রাব বেরিয়ে আসা
৪. প্রস্রাবে গন্ধ
৫. পেটে ব্যথা
এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলেই চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। এই ওষুধ খেলেই ভালো থাকবেন।

২. ডিহাইড্রেশন হতে পারে সমস্যার কারণ​
জল প্রতিটি ব্যক্তিকে পরিমাণ মতো খেতে হবে। তার কম হলেই শরীরে দেখা দিতে পারে বিরাট সমস্যা। এক্ষেত্রে হতে পারে ডিহাইড্রেশন। বিজ্ঞান জানাচ্ছে, জল কম পান করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। এই কারণে তা ধূসর বা গাঢ় রঙের হয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে কোনও ওষুধ কাজে আসে না। বরং আপনাকে নিয়মিত জলপান করতে হবে। আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে দিনে অন্ততপক্ষে ৩ লিটার জলপান করা প্রয়োজন।

​৩. কিডনিতে স্টোন হলেই বিপদ​
কিডনি তৈরি করে মূত্র। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই অঙ্গে খনিজ জমে তৈরি করে স্টোন। এই অঙ্গে পাথর তৈরি হলে প্রস্রাব ধূসর হতে পারে। এছাড়া কিডনি স্টোন থাকলে এই কয়েকটি লক্ষণও দেখা যায়- পিঠে ব্যথা, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত থাকা ইত্যাদি। পাশাপাশি আক্রান্তের জ্বর আসতে পারে। এই ধরনের কোনও লক্ষণ দেখা দিলেই তাই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। ছোট আকারের স্টোন খুব সহজেই বেরিয়ে যায়। অপরদিকে বড় আকারের স্টোন বের করতে অপারেশন করতে হয়।

​৪. বিপদের কারণ এসটিআই​
সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ অত্যন্ত সমস্যার এক রোগ। অসাবধানতার সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার জন্য এই অসুখ পিছু নিতে পারে। ক্যালামিডায়া, গনোরিয়ারম মতো ইনফেকনশন এক্ষেত্রে সঙ্গী হতে পারে। এই দুই ইনফেকশন কিন্তু মহা সমস্যার কারণ। এক্ষেত্রে প্রস্রাব ধূসর হওয়া সম্ভব। এছাড়াও এই লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে- পেনিস বা ভ্যাজাইনা থেকে ক্লাউডি বা ব্লাডি ডিসচার্জ, শারীরিক ঘনিষ্ঠতার পর যৌনাঙ্গে যন্ত্রণা, জ্বালা করা ইত্যাদি। এই অসুখের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবোয়াটিক খান। তবেই সুস্থ থাকতে পারবেন।

​৫. প্রস্টেটের সমস্যা​
পুরুষের প্রস্টেট গ্ল্যান্ড রয়েছে। এই গ্রন্থি স্পার্মে তরল পদার্থ যোগ করে। দেখা গিয়েছে যে এই অঙ্গে প্রদাহ হলেও প্রস্রাব অনেক ক্ষেত্রেই ধূসর হয়ে যায়। তাই সচেতন থাকা ছাড়া অন্য কোনও গতি নেই। এছাড়াও প্রস্রাবে রক্ত থাকলে বা তলপেটে ব্যথা হলেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খান। তবেই ভালো থাকতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *