গল্পের বারোটা বাজিয়ে শুধু রক্ত আর যৌনতা! বক্স অফিসে কি শুধুই পিআর স্টান্টের জোরে টিকে আছে ‘টক্সিক’?

‘অ্যানিম্যাল’ ছবির পর থেকেই সিনে দুনিয়ায় এখন ট্রেন্ড ‘আলফা মেল’ আর টক্সিক পুরুষত্ব। পেশিবহুল চেহারা, ডাকাবুকো মেজাজ এবং মৃত্যুর ভয়হীন অল-টাইম অ্যাকশন— গত কয়েক বছর ধরে বক্স অফিসে এই ফর্মুলাতেই বাজিমাত করছে একের পর এক ছবি। সম্প্রতি আদিত্য ধর ও রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’ কিংবা ২৬ অগাস্ট মুক্তি পাওয়া যশের বহুল আলোচিত ছবি ‘টক্সিক’— সবক্ষেত্রেই এই ট্রেন্ড স্পষ্ট। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তারক্তি, মারকাটারি দৃশ্য এবং গ্ল্যামারের ভিড়ে ছবির মূল ভিত্তি অর্থাৎ চিত্রনাট্য কি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে? সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে শুধু রক্তমাখানো ফ্রেম আর উত্তেজনাই কি দর্শকের মনে থাকছে, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে শুধুই সাজানো পিআর স্টান্ট?
ছবি মুক্তির পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে যশ অনুরাগীদের উন্মাদনার নানা দৃশ্য। তবে এর মাঝেই দানা বেঁধেছে অন্য বিতর্ক। ছবি নিয়ে নেগেটিভ রিভিউ ইউটিউবারদের কাছ থেকে আসতেই তা মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ‘টক্সিক’ টিমের বিরুদ্ধে। যদি ছবি সত্যিই দুর্দান্ত হয়, তবে এমন পদক্ষেপের কী প্রয়োজন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নেটপাড়ায়।
গল্পের দিক থেকে ছবিতে রায়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন যশ, যিনি সংঘাত ও হিংস্রতার সঙ্গে একেবারে সাবলীল। শৈশব থেকে তাঁকে আগле রাখা বোন গঙ্গা (নয়নতারা) তাঁকে মনে করিয়ে দেয় তাঁর মূল লক্ষ্য—বিশ্ব শাসন করে ‘সিকন্দার’ হওয়া। সালভাদোর (ড্যারেল ডি’সিলভা), তাঁর প্রেমিকা হুমা কুরেশি এবং অক্ষয় ওবেরয়ের ভিড়ে গল্পের আসল মোড় ঘোরে সার্কাস পরিচালনাকারী ‘জলপরী’ নাদিয়ার (কিয়ারা আদভানি) আগমনে। রায়া ও নাদিয়ার তীব্র প্রেমের পাশাপাশি হাজির হয় চেনা নাটকীয়তা। প্রথমার্ধ কিছুটা দীর্ঘ মনে হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে যশের বেপরোয়া ও প্রতাপশালী চরিত্রটিই ছবির মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। সিগারেট ধরানোর দৃশ্য বা স্লো-মোশনের ক্যারিশমায় যশ নজর কাড়লেও, অপরাধবোধে ভোগা চরিত্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দারুণ অভিনয়ের দক্ষতা। কিয়ারা আদভানিও শোকে ব্যাকুল নারীর চরিত্রে বেশ সংযত ও সূক্ষ্ম অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। তবে নয়নতারা, তারা সুতারিয়া ও হুমা কুরেশির স্ক্রিন টাইম অনেকটাই সীমিত।
পরিচালক গীতু মোহনদাসের এই ছবিতে নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপন সম্পূর্ণভাবে ‘মেল গেইজ’ বা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই নির্মিত। কাটার মাথা কিংবা শাওয়ারে ঝুলন্ত লাশের মতো দৃশ্যে রক্তারক্তি ও হিংস্রতার ছড়াছড়ি থাকলেও তা সূক্ষ্মতার ধার ধারে না। কিছু সিজিআই দৃশ্য অতিরিক্ত কৃত্রিম ঠেকলেও, ছবির চটজলদি সংলাপগুলো ঠিকই প্রেক্ষাগৃহে হাততালি আদায় করতে সফল হয়েছে। দিনশেষে, টক্সিক কি কেবলই অ্যাকশন নির্ভর ফ্রেমের মোড়ক, নাকি নিখাদ গল্পের জাদুতে ভরপুর—সেই উত্তর খুঁজছেন দর্শকরাই।