তীব্র ভূমিকম্পের পরেই তিব্বতের হ্রদ ভেঙে প্লাবনের আশঙ্কা! ফের চরম বিপদের মুখে নেপাল

ভয়াবহ হড়পা বানের কাঁপুনি কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ফের হ্রদ ফেটে জল উপচে পড়ায় বড় বিপদের মুখে পড়ল নেপাল। চিনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরেই এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে নেপালের রাসুয়া, ধুঙ্গে বাজারসহ একাধিক বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কী কারণে এই হাড়হিম করা পরিস্থিতি?চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তিব্বতের গিয়রং কাউন্টি এবং নেপাল সীমান্তের কাছে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলে একটি বিশাল প্রাকৃতিক বাঁধ বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার জল জমে যায় এবং এটি ইতিমধ্যেই উপচে পড়তে শুরু করেছে। চিনা প্রশাসনের আশঙ্কা, আগামী তিন দিনের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার জল এই হ্রদে প্রবেশ করতে পারে, যা মোট জলভাণ্ডারকে ৫০ লাখ ঘনমিটারে উন্নীত করবে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে এই প্রাকৃতিক হ্রদের বাঁধ ভেঙে মারাত্মক প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।উদ্ধারকাজে স্থগিতাদেশ ও প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপপরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ দেশের সমস্ত প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। নুয়াকোট জেলার ধুঙ্গে বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করে পুলিশ ও প্রশাসন মাইকিং শুরু করেছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, উজান থেকে হু হু করে জল নামতে শুরু করলে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে প্লাবিত হতে পারে সংলগ্ন জনবসতি। নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার মানুষকে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না নিয়ে অবিলম্বে ঘরবাড়ি খালি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মী ও সাধারণ মানুষকেও নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নিখোঁজের দীর্ঘ তালিকাএর আগে ভয়াবহ ভূমিধস ও হড়পা বানের জেরে তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে বহু মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। পাশাপাশি নেপাল অংশেও প্রায় ১০০ জন চিনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের জেরে ভারত ও তিব্বত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিন এবং নেপাল প্রশাসন যৌথভাবে পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *