মাত্র ৮ দিনে ৩৭৮ গ্রেপ্তার, ৬৪ কোটির মাদক উদ্ধার! কী বললেন শুভেন্দু?

মাদকের অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মাদক পাচার রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে এক মেগা অভিযান চালাল পুলিশ প্রশাসন। গত ৩১ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর—মাত্র এই আট দিনের বিশেষ অভিযানে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশি জালে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক এবং এর সঙ্গে যুক্ত চক্রের পাচারকারীরা। শনিবার নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডলে এই সাফল্যের সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

৮ দিনে ৩৭৮ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৬৪ কোটির মাদক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আট দিনের এই সাঁড়াশি অভিযানে গোটা রাজ্য থেকে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা মূল্যের বেআইনি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মোট ২১২টি পৃথক মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৭৮ জন কুখ্যাত মাদক কারবারিকে। ধৃতদের কাছ থেকে নগদ ১৭ লক্ষ টাকাও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। শুধু মাদক উদ্ধার বা গ্রেপ্তারই নয়, গত আট দিনে সরকারি আধিকারিকরা প্রায় ১০১ কোটি টাকা মূল্যের বাজেয়াপ্ত মাদক সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস বা নষ্ট করে দিয়েছেন।

নষ্ট হলো ৩০০ বিঘা গাঁজা খেত, জব্দ সম্পত্তি মাদক পাচারের পাশাপাশি বেআইনি গাঁজা চাষের বিরুদ্ধেও সমানভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে কারবারিদের। এদিনের অভিযানে প্রায় ৩০০ বিঘা জমির বেআইনি গাঁজা চাষ ধ্বংস করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ আনুমানিক ১০ হাজার কেজি।

মাদকের এই কালো টাকা ঠিক কোথায় এবং কোন চ্যানেলে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তার উৎস খুঁজতে কোমর বেঁধে নেমেছে পুলিশ। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ১১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ধরপাকড়ের পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচার আইনি কড়াকড়ির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে রাখতে এবং এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে গোটা রাজ্য জুড়ে ২১৫টি বড় ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রাজ্যকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত রাখার এই মহাযজ্ঞে দিনরাত এক করে কাজ করে যাওয়ার জন্য রাজ্যের সমস্ত পুলিশকর্মী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *