৭০০ ভরিরও বেশি সোনায় সাজলেন অনুব্রত মণ্ডলের কালী প্রতিমা! কিন্তু এত গয়না এল কোথা থেকে?

আলোর উৎসব কালীপুজোয় মেতে উঠেছে রাজ্য। সতীপীঠ তারাপীঠ, নলাটেশ্বরী থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের অলিতে-গলিতে চলছে শ্যামা মায়ের আরাধনা। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও বীরভূমের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু তথা অনুব্রত মণ্ডলের তৃণমূল পার্টি অফিসের ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো ঘিরে অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে। প্রায় ৭০০ ভরিরও বেশি খাঁটি সোনার অলঙ্কারে মোড়া দেবী প্রতিমার রূপ দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে দর্শনার্থীদের। দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই পুজোর ইতিহাস, মাহাত্ম্য এবং দেবীমূর্তির বিশাল অলঙ্কার ভাণ্ডারের রহস্য নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।
সংবাদমাধ্যমের সামনে এই পুজোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কেষ্ট মণ্ডল। তিনি জানান, এই পুজো একদিনে আজকের বিশাল রূপ নেয়নি। পুজোর সূচনার গল্প বলতে গিয়ে অনুব্রত বলেন, “এই পুজো অত্যন্ত কঠোর নিয়ম-কানুন মেনে সম্পন্ন করা হয়। এটি প্রথম শুরু হয়েছিল বারুইপুকুরে। তখন আমার বয়স খুব জোর ১৬ বছর। আমাদের বাড়ির ভেতরের রাস্তায় অত্যন্ত ছোট পরিসরে আমি প্রথম একটা প্রতিমা এনে পুজো শুরু করেছিলাম। আমি তখন বারুইপুকুরের একটি ক্লাবের সাধারণ সদস্য ছিলাম। কিছুদিন পর ক্লাবের দাদারা বলল যে, ঠাকুরটাকে পেছনের গলি থেকে বের করে সামনের খোলা পরিসরে নিয়ে আসতে হবে। সেই যে সামনের চত্বরে মায়ের পুজো শুরু হলো, তারপর থেকে টানা চলেই আসছে। হিসাব করলে দেখতে পাবেন, এই পুজোর বয়স প্রায় ৬০ বছরের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।”
দেবী প্রতিমার গায়ে প্রায় ৭০০ ভরি সোনা এবং এই অঢেল ঐশ্বর্য কীভাবে এল, সেই প্রশ্নেরও সোজাসাপ্টা উত্তর দিয়েছেন তৃণমূল নেতা। অনুব্রত মণ্ডলের কথায়, “মা কালী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত। আমি দীর্ঘ দিন জেল খেটে বেরোনোর পরও এসে দেখলাম মা সেই একই রকম সোনার গয়নায় সেজে উঠেছেন। আসলে এই অলঙ্কার আমি বা আমাদের পার্টি আলাদা করে কেনেনি। বিভিন্ন সময় মানত পূরণ হওয়ায় মায়ের অগুনতি ভক্তেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সোনার গয়নাগুলো দেবীকে দান করেন।” জেলমুক্তির পর এবার পুজোর আয়োজন নিয়ে মনে কিছুটা সংশয় ছিল স্বীকার করে কেষ্ট বলেন, “মায়ের মহিমা এমন যে পুজোতে কিছুই কষ্ট করে যোগাড় করতে হয় না। সত্যি বলতে আমার ধারণা ছিল, দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে হয়তো এবার আয়োজনে কিছুটা অভাব টের পাব। ভেবেছিলাম পার্টি হয়তো সেভাবে সবটা সামলাতে পারবে না। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হলো, মায়ের আশীর্বাদে এবারও কিন্তু কোনো অভাব বুঝতে পারলাম না।”
শুধু প্রতিমার অলঙ্কারই নয়, এই পুজোর রকমারি ও রাজকীয় ভোগ প্রসাদ নিয়েও চর্চা কম নয়। পুজোর মহাভোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অনুব্রত মণ্ডল জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঐতিহ্যবাহী ভোগের পদ অপরিবর্তিত থাকছে। মায়ের ভোগে রাখা হচ্ছে বিশেষ খিচুড়ি, বাঁধাকপির তরকারি, পায়েস, চাটনি এবং নিয়ম মেনে ৯ রকমের ভাজা। এর পাশাপাশি বলির পর বিশেষ পদ হিসেবে থাকছে পাঁঠার মাংস। তিথি ও শাস্ত্রীয় আচার মেনে গভীর রাতে এই পুজো সম্পন্ন হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।