“এদের আমি চিনিই না!” চেন্নাইয়িনের কাছে ৫ গোল খেয়ে বিস্ফোরক ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস

এ যেন চেনা লাল-হলুদ ব্রিগেডের অচেনা এক রূপ। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যুবভারতীতে ধাক্কা খাওয়ার পর এবার আইএসএলেও (ISL) চরম লজ্জাজনক হারের মুখে পড়ল ইস্টবেঙ্গল। শনিবার অ্যাওয়ে ম্যাচে চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে ৫-৩ গোলে বিধ্বস্ত হতে হলো স্প্যানিশ কোচ আন্তনিও লোপেজ হাবাসের দলকে। এএফসি ও আইএসএল মিলিয়ে পর পর ব্যর্থতা এবং স্কোয়াড নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষার কারণে সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ সমর্থক ইতিমধ্যেই হাবাসকে সরানোর দাবি তুলতে শুরু করেছেন। এই চরম কোণঠাসা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দলের সব দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন এই স্প্যানিশ কোচ।

মরশুমের শুরুতে যে লাল-হলুদ দল দুর্দান্ত ছন্দে উড়ছিল, সেই দলকেই আর চিনতে পারছেন না হাবাস। স্পষ্ট জানালেন, শনিবারের ম্যাচে নামা ফুটবলাররা তাঁর কাছে যেন একেবারেই অচেনা!

চেন্নাইয়িনের কাছে হেরে ঠিক কী বললেন হাবাস? চলতি আইএসএলে এটাই ইস্টবেঙ্গলের প্রথম পরাজয়। তবে যেভাবে দলের মাঝমাঠ ও রক্ষণের মধ্যে বিশাল ফাঁক তৈরি হয়েছিল এবং সংগঠিত আক্রমণের চূড়ান্ত অভাব ছিল, তাতে ক্ষুব্ধ স্বয়ং কোচ-ও। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাবাস বলেন, “এমন ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে কোন ম্যাচ জেতা অসম্ভব। এএফসি-র ম্যাচ খেলে আসা ও টানা যাতায়াতের ক্লান্তি নিশ্চিতভাবেই ছিল, তবে কোচ হিসেবে এই ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় আমারই। এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, সেই সমাধান আমাকেই খুঁজতে হবে। কারণ আজ মাঠে যা দেখলাম, এটা আমার দল নয়। এই প্লেয়ারদের আমি সত্যি চিনি না। আজকের ফলাফলটা একটা বড় দুর্ঘটনার মতো, আশা করি ভবিষ্যতে আর এমন ঘটবে না।”

কেন চেন্নাইয়িনের কাছে এভাবে দুরমুশ হলো লাল-হলুদ? দল যে শনিবার মাঠে কোনো লড়াই-ই দিতে পারেনি, তা অকপটে স্বীকার করে নেন হাবাস। চেন্নাইয়িন যেভাবে রক্ষণভাগ মজবুত রেখে কেবল কাউন্টার অ্যাটাকে এসে লাল-হলুদ ডিফেন্সকে তছনছ করে দিয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাবাস জানান, “আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো লড়াই, মনোযোগ কিংবা জেতার তাগিদ ছিল না। মিডফিল্ডের বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার খেসারত দিতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ ডিফেন্স সামলে আমাদের প্লেয়ারদের মাঝের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়েছে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে গোল তুলে নিয়েছে। পরপর গোল খাওয়ার পর আমরা আর ম্যাচে কামব্যাক করতে পারিনি।”

আনোয়ার আলির অনুপস্থিতিই কি হারের কারণ? শেষ দুটি ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের জালে ঢুকেছে মোট ৭টি গোল। চোটের কারণে শনিবারের ম্যাচে ছিলেন না তারকা ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। তবে আনোয়ার না থাকাই যে একমাত্র হারের কারণ, তা মানতে নারাজ লাল-হলুদ কোচ। তাছাড়া গোলকিপিং পজিশনে এএফসি-তে লাচেনপা এবং আইএসএলে প্রভসুখান গিলকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর সিদ্ধান্তকেও যৌক্তিক বলেই মনে করছেন তিনি।

ম্যাচের ঠাসা সূচি ও শারীরিক ধকল অবশ্যই একটা বড় কারণ হলেও, হারের পেছনে তাকে কোনো অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না অভিজ্ঞ এই স্প্যানিশ কোচ। এখন দেখার, টানা দুই ম্যাচে ধাক্কা খাওয়ার পর লাল-হলুদ ব্রিগেড নিজেদের কীভাবে ঘুরে দাঁড় করায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *