‘হে ভগবান! এই দোকানে যেন কম খরিদ্দার আসে!’ প্রয়াগরাজের এক ভাইরাল দোকানদারের কান্ড দেখে স্তম্ভিত নেটদুনিয়া!

“হে ভগবান! আমার এই দোকানে যেন কম খরিদ্দার আসে!”— সাধারণ ব্যবসায়ী যেখানে দোকানে বেশি খরিদ্দারের আশায় থাকেন, সেখানে প্রয়াগরাজের এক দোকানদারের এই উল্টো নীতি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। দেওয়ালের এমন অদ্ভূত বার্তা এবং তার সাথে দোকানের বাইরে ঝুলিয়ে দেওয়া কড়া সতর্কবার্তা নিয়ে আপাতত তোলপাড় প্রয়াগরাজের রাজাপুর এলাকা। কেবল বার্তা দেওয়াই নয়, সেই দোকানে স্পষ্ট করে লিখে দেওয়া হয়েছে— “এই দোকানে মহিলাদের আসা পুরোপুরি নিষিদ্ধ, কেবল পুরুষরাই আসতে পারবেন।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দোকানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তা এক মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরতে শুরু করে।
কেন মহিলাদের দোকানে আসার ওপর এই আজব নিষেধাজ্ঞা?
দোকানের এমন অদ্ভুত সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোন মানসিকতা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করতেই মুখ খুলেছেন দোকানদার ঘনশ্যাম বাবা। তিনি জানান, তাঁর দোকানের আশপাশে জনবসতি কিছুটা কম হওয়ায় বিকেল গড়ালেই শুরু হয় মদ্যপদের মারাত্মক উপদ্রব।
মদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা অসামাজিক মৌলরা পথচলতি সাধারণ মানুষের ওপর নানারকম অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য ছুড়ে দেয়। এমনকি তাঁর দোকানে কোনো মহিলা জিনিসপত্র কিনতে এলেও তাঁদের উদ্দেশ্য করে নোংরা মন্তব্য করা হয়, যা মহিলাদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। ঘনশ্যাম বাবার বক্তব্য, তাঁর দোকানে এসে কোনো মহিলা যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে না পড়েন বা বিপদে না পড়েন, সেই নিরাপত্তার কথা ভেবেই বাধ্য হয়ে তিনি মহিলাদের দোকানে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
দোকানের দেওয়ালে কबीर বাণী ও রামচরিতমানস
ঘনশ্যাম বাবার এই দোকানটি কেবল এই সতর্কবার্তার জন্যই নয়, আরও নানা কারণে ব্যতিক্রমী। তিনি তাঁর দোকানের চারপাশে রামচরিতমানসের নানা পবিত্র চৌপাই এবং সাঁই ক্বীরের ভক্তিমূলক ও নীতিকথামূলক পদ লিখে রেখেছেন। ভক্তিমূলক পরিবেশের পাশাপাশি অসামাজিক উপদ্রবের বিরুদ্ধে তাঁর এই প্রতিবাদ এক অন্য মাত্রা পেয়েছে।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোকানদার ঘনশ্যাম বাবার নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়টি সমর্থন করলেও, মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সঠিক বলে মানতে পারছেন না।
অনেকেরই প্রশ্ন— মদ খেয়ে যারা নোংরামি ও অসভ্যতা করছে, অপরাধ তো তাদের। তাহলে তার শাস্তি কেন সাধারণ মহিলারা পাবেন? অসামাজিক মদ্যপদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে দোকানদার এবং এলাকার মহিলা— উভয় পক্ষই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন।