টয়লেটে ঠাঁই, দরজায় ঝুলছে প্রাণ! ছট ও দিওয়ালিতে বাড়ি ফেরার এ কী ভয়ংকর ছবি ট্রেনে?

দিওয়ালি এবং তার পরপরই বিহার ও পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ছট মহাপর্ব। উৎসবের আনন্দে শামিল হতে পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের মতো বিভিন্ন রাজ্য থেকে লাখ লাখ পরিযায়ী শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও ছাত্রছাত্রী নিজ ঘরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে বাড়ি ফেরার পথ যে কতটা কঠিন ও বিপজ্জনক, তার সাক্ষী থাকছে দূরপাল্লার ট্রেনগুলি। পূর্বাঞ্চল ও বিহারগামী প্রতিটি ট্রেনে উপচে পড়া ভিড়, এমনকি সাধারণ কোচে পা রাখার মতো বিন্দুমাত্র জায়গা নেই।
সামাজিক মাধ্যমে এবং স্টেশনে সামনে এসেছে এক মর্মান্তিক দৃশ্য— গন্তব্যে পৌঁছাতে বহু যাত্রী ট্রেনের টয়লেটের ভেতরে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ অতিক্রম করছেন, আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের দরজায় ঝুলছেন।
সাহারানপুর জংশনে জনসেবা এক্সপ্রেসের ভয়ংকর ছবি
অমৃতসর থেকে শুরু হয়ে বিহারের পূর্ণিয়াগামী ‘জনসেবা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যখন উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জংশনে এসে পৌঁছায়, তখন গোটা স্টেশন চত্বর এবং ট্রেনের কামরাগুলির দৃশ্য দেখে অনেকেই শিউরে ওঠেন। ট্রেনের প্রতিটি জেনারেল বগি কানায় কানায় পূর্ণ। কয়েক মাস আগে থেকে চেষ্টা করেও যাঁরা নিশ্চিত টিকিট (Reservation) পাননি, তাঁদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের ভিড় সামলাতে প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকে বগিতে ওঠার জায়গা না পেয়ে দরজার হাতল ধরে জীবন বাজি রেখে যাত্রা করছেন।
“কাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টয়লেটেই আমার ঠিকানা!”
টয়লেটের ভেতর বসে যাতায়াত করা রামপুরের এক যাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “টিকিট কনফার্ম হয়নি। কিন্তু উৎসবে বাড়ি যেতেই হবে, তাই বাধ্য হয়ে টয়লেটের মেঝেকেই যাত্রাপথের ঠিকানা বানাতে হয়েছে।”
অন্যদিকে, বিহারের পূর্ণিয়াগামী যাত্রী নির্মল কুমারের অভিজ্ঞতার কথা শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। তিনি জানান, “গতকাল সকাল ১১টা থেকে ট্রেনের টয়লেটে বসে আছি। কাল বিকেল ৫টায় পূর্ণিয়া পৌঁছালে তবেই নামতে পারব। এক মাস আগে থেকে টিকিট কাটার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ওয়েটিং লিস্টের কারণে সিট পাইনি।”
উৎসবে শামিল হওয়ার আনন্দ বনাম জীবনের ঝুঁকি
গোরখপুরগামী এক যাত্রী জানান, “দিওয়ালি আর ছট পুজো বছরে একবারই আসে। পরিবার অপেক্ষা করে আছে, তাই কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতেই হবে। ট্রেনের অবস্থা চোখে দেখাই যাচ্ছে, দাঁড়িয়ে থাকার মতো ন্যূনতম জায়গাও নেই।”
সামগ্রিকভাবে, উৎসবে বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতা যাত্রীদের মনকে আলোড়িত করলেও, পর্যাপ্ত স্পেশাল ট্রেনের অভাব এবং আসন না পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে এমন বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করতে বাধ্য করছে। যা আবারও রেল পরিষেবা ও যাত্রী সুরক্ষার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।