দিল্লির পথেই বাংলা? দীপাবলির আগেই লাফিয়ে বাড়ল বায়ুদূষণ, কলকাতার বাতাসে মারাত্মক মাত্রা পার করল পিএম ২.৫

রাজধানী দিল্লির ভয়াবহ দূষণের ছবি এবার কি তবে বাংলায়? কালীপুজো ও দীপাবলির আনন্দ উপভোগের আগেই বাংলার বাতাসে মিশতে শুরু করেছে কমাগত বিষ। বাজি ফাটানোর মরশুম শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে হু হু করে বাড়ছে বায়ুদূষণ। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিও এক একটি ‘গ্যাস চেম্বার’-এ পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
কড়া নিয়ম সত্ত্বেও বাজি ফাটানোর দাপট:
কালীপুজোয় বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই একাধিক কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। উৎসবের রাতে বাজি ফাটানোর জন্য নির্দিষ্ট করে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বাজি বিক্রি ও মজুত করার ক্ষেত্রেও মানা হচ্ছে নানা বিধিনিষেধ। কিন্তু এত কিছুর পরেও আলোর উৎসবের আগেই বাংলার বাতাসে বিষের কালো ছায়া নেমে এসেছে। লাগাতার বাজি ফাটানোর ফলে বাতাসে ক্ষতিকারক দূষণ মাত্রাছাড়া হারে বেড়ে গেছে এবং সহনশীলতার সমস্ত মাত্রা পার করে গেছে পিএম ২.৫ (PM 2.5) বা সূক্ষ্ম ধূলিকণা।
কোথায় কত দূষণ?
বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাঞ্চল্যকর দূষণের তথ্য সামনে এসেছে:
ঘুসুরি (হাওড়া): এই এলাকার বাতাসে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯৭।
যাদবপুর (কলকাতা): যাদবপুরের বাতাসে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ মাত্রা পৌঁছেছে ৩১৫-তে।
সল্টলেক: পিছিয়ে নেই সল্টলেকও। এখানকার বাতাসে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ মাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩০৬।
দিল্লির ভয়াবহতার হাতছানি:
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দু’দিনে এই দূষণের মাত্রা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ এই সময় বাজি পোড়ানোর প্রবণতা আরও বাড়ে। দীপাবলির ঠিক আগেই যদি দূষিত কণার মাত্রা ইতিমধ্যেই ৩০০ গণ্ডি পার করে যায়, তবে উৎসবের দিনগুলিতে তা ৪০০-র গণ্ডি অনায়াসেই ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে দূষণ কণা আরও বেশি মাত্রায় বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মতো এবারও দীপাবলির আগেই দিল্লির বায়ুদূষণ চরম সীমায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি দিল্লিতে বাতাসের গুণমান সূচক বা একিউআই (AQI) ৫২৫-এর গণ্ডি পার করে যাওয়ায় সেখানে ইতিমধ্যেই ‘গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান’ (GRAP)-এর তৃতীয় পর্যায় কার্যকর করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার আকাশ-বাতাসও যেভাবে দূষণের গ্রাসে চলে যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।