দীপাবলির রাতেই বহুতলে লেভেল-২ অগ্নিকাণ্ড! ২০ তলায় রকেট বাজি নাকি শর্ট সার্কিট? মুম্বইয়ে চরম আতঙ্ক

আলোর উৎসব দীপাবলির রাতের আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হলো বাণিজ্যিক নগরী মুম্বইয়ে। শুক্রবার রাতে পূর্ব মুম্বইয়ের ঘাটকোপার এলাকার একটি অভিজাত বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ আগুনের লেলহান শিখা ছড়িয়ে পড়তেই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনজুড়ে। তড়িঘড়ি খালি করে দেওয়া হয় গোটা ২১ তলা আবাসনটি। ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত ও দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৮টা ৮ মিনিট নাগাদ ঘাটকোপার ইস্টের পান্তনগর এলাকার বল্লভ বাগ লেনে অবস্থিত ‘রয়্যাল অলতেজা’ (Royal Altezza) নামক ২১ তলা বহুতল আবাসনে প্রথম আগুন দেখতে পাওয়া যায়। মেয়র ঋতু তাওড়ের দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, আগুনের সূত্রপাত ঘটে বহুতলটির ২০ তলায়।
উৎসবের মরশুমে মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে। আগুনের তীব্রতা দেখে তড়িঘড়ি এটিকে ‘লেভেল-২’ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করে মুম্বই দমকল বিভাগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের অন্তত আটটি ইঞ্জিন, ওয়াটার ট্যঙ্কার এবং বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম। দীর্ঘ প্রায় দু’ঘণ্টারও বেশি সময় আপ্রাণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
দগ্ধ ৩, একজনের অবস্থা গুরুতর:
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৫ বছর বয়সি সৈনাথ আওয়ালে নামে এক ব্যক্তির শরীরের প্রায় ২৭ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছে। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে বর্তমানে তাঁর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল। অন্যদিকে, নিরব লোদায়া (৩৪) এবং রাজেশ লোদায়া (৪৭) নামে আরও দু’জন শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য আঘাত নিয়ে ঘাটকোপারের জিনোভা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রকেট বাজি নাকি শর্ট সার্কিট? দানা বাঁধছে রহস্য:
আগুনের মূল কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, বাইরে উৎসবের রাতে ফাটানো কোনো রকেট বাজি উড়ে এসে ২০ তলার ফ্ল্যাটের ভেতর পড়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। তবে মুম্বই পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ফলে অসাবধানতাবশত রকেট বাজি নাকি বৈদ্যুতিক গোলযোগ—ঠিক কী থেকে এই তাণ্ডব, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকল বিশেষজ্ঞ দল।
আবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন:
অগ্নিকাণ্ডের পর কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে পুরো বহুতলের সমস্ত বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে বাইরে বের করে আনা হয়। বহুতলের ভেতর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান চালায় দমকল, পুলিশ, বিদ্যুৎ দফতর এবং স্থানীয় পুরসভার যৌথ উদ্ধারকারী দল।
তবে ঘটনার পর আবাসনের অগ্নিনির্বাপণ (Fire Safety) ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অধিবাসীরা। অভিযোগ, আগুন লাগার পর প্রাথমিক পর্যায়ে বহুতলের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করেনি। পরে দমকলকর্মীরা গিয়ে সেই ব্যবস্থা সচল করেন। আবাসনের অগ্নিনিরাপত্তা বিধিতে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়েও পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে।