SIR ট্রাইব্যুনালে বড় ধাক্কা! পরপর তিন প্রাক্তন বিচারপতির পদত্যাগে অস্বস্তি তুঙ্গে, কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত?

বাদ পড়া ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত এসআইআর ট্রাইবুনালে (SIR Tribunal) বড় ধরণের ধাক্কা। অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ওই ১৯ সদস্যের ট্রাইবুনাল থেকে একে একে পদত্যাগ করলেন তিনজন বিশিষ্ট বিচারপতির সবাই। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম এবং প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পর এবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুও।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের সুবিধার্থে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক-বিচারপতিদের নিয়ে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল। এই ট্রাইবুনালগুলিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম, প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ, সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় ও ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট নামগুলি যুক্ত ছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার পরেই একের পর এক পদত্যাগের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আইনি মহলে।

কেন পদত্যাগ করলেন বিচারপতিরা?

সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ট্রাইবুনাল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দুই থেকে তিনজন বিচারপতি ভিন্ন ভিন্ন কারণ দেখিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিলেন।

এর আগে, দূরত্বের কারণ দেখিয়ে ট্রাইবুনাল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন ২২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে যাতায়াত করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়া কাজ শুরু করার পর বকেয়া মামলার যে পাহাড়প্রমাণ চাপ তাঁর নজরে আসে, তাতে তিনি আর এই দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্বে থাকতে চাননি। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা বলেই আগেই ট্রাইবুনালের কাজ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম।

একে তো ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ, তার ওপর খোদ ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকা বিচারপতিদের একের পর এক এভাবে সরে দাঁড়ানোয় গোটা প্রক্রিয়াটি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *