৩১ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল! ১.০১ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের দাবিতে তুলকালাম, পাল্টা তোপ তেল সংস্থাগুলির

রাজ্যের খুচরো পেট্রোল পাম্পগুলিতে বিক্রি হওয়া পেট্রোলে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি, অর্থাৎ ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানো রয়েছে—কর্নাটক সরকারের এই চাঞ্চল্যকর দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি ও জ্বালানি খাতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই এক যৌথ বিবৃতিতে রাজ্যের সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ তিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা—ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম (HPCL)।

কী দাবি করেছিল কর্নাটক সরকার?

কর্নাটক সরকারের খাদ্য, সিভিল সাপ্লাই ও লিগ্যাল মেট্রোলজি বিভাগের মন্ত্রী রিজওয়ান আরশাদ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বেঙ্গালুরু, কোলার, চিক্কাবল্লাপুরা, ম্যাঙ্গালুরু এবং তুমাকুরু-সহ সাতটি জেলা থেকে সংগৃহীত পেট্রোলের নমুনায় ইথানলের পরিমাণ ২৬ থেকে ৩১.২ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছে, যা নির্ধারিত ২০ শতাংশের (E20) আইনি সীমার চেয়ে অনেক বেশি।

রাজ্যের দাবি, এই অতিরিক্ত ইথানল মেশানোর কারণে গাড়ির মাইলেজ হু-হু করে কমছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মিলিয়ে গ্রাহকদের প্রায় ১.০১ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এই বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে কেন্দ্র ও তেল সংস্থাগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করার হুঁশিয়ারিও দেয় রাজ্য সরকার।

তেল সংস্থাগুলির কড়া পাল্টাজবাব ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি:

কর্নাটক সরকারের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। যৌথ বিবৃতিতে তারা যে যুক্তিগুলি তুলে ধরেছে:

১. মাইলেজ কমার বিভ্রান্তিকর হিসেব:

সংস্থাগুলির বক্তব্য, কোনরকম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়াই দেশজুড়ে ১০ শতাংশ মাইলেজ কমার যে অনুমানের কথা বলা হচ্ছে, তা ভুল। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অফিসিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, E20 জ্বালানির কারণে গাড়ির মডেল ভেদে সর্বোচ্চ ১ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে। তাছাড়া, গত ৩ বছর ধরে দেশে ৩৪ কোটিরও বেশি গাড়ি E20 পেট্রোলে কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলছে।

২. আইনি নিয়ম লঙ্ঘন করে নমুনা সংগ্রহ:

তেল সংস্থাগুলির অভিযোগ, কর্নাটক সরকার মোটর স্পিরিট অ্যান্ড হাই স্পিড ডিজেল কন্ট্রোল অর্ডার (২০০৫) এবং মার্কেটিং ডিসিপ্লিন গাইডলাইনস (MDG 2024)-এর নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি না মেনে নমুনা সংগ্রহ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী তেল সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ৬টি যৌথভাবে সিল করা নমুনা নিতে হয়, যা এখানে মানা হয়নি।

৩. ল্যাব রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন:

অভিযোগ, কর্নাটক সরকার অনুমোদিত সরকারি গেজেটেড ল্যাবরেটরির পরিবর্তে থার্ড-পার্টির একটি শংসাপত্রের ওপর নির্ভর করে এই অভিযোগ এনেছে। ওই রিপোর্টে ইথানলের পরিমাণ যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো প্রযুক্তিগত তথ্য নেই। রাজ্য সরকারের কাছে বারবার পূর্ণাঙ্গ ল্যাব রিপোর্ট ও নমুনা চাওয়া হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি।

সংস্থাগুলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কর্নাটক-সহ সারা দেশে সরবরাহ করা E20 পেট্রোল ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS)-এর ‘IS 17021’ মানদণ্ড শতভাগ কঠোরভাবে মেনে তৈরি করা হয়। ফলে কর্নাটক সরকারের আনা যাবতীয় অভিযোগ আইনগত ও বৈজ্ঞানিকভাবে অসিদ্ধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *