মুম্বই হামলার স্মৃতি উসকে ফের সমুদ্রপথে নাশকতার ছক! আরব সাগরের দ্বীপে স্কুবা ডাইভিংয়ের গোপন প্রশিক্ষণ লস্করের

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সেই ক্ষত এখনও দেশবাসীর মনে তাজা। সমুদ্রপথকে ব্যবহার করেই ভারতে প্রবেশ করেছিল লস্কর-ই-তৈবার ১০ ঘাতক জঙ্গি। সেই বীভৎস স্মৃতি উসকে ফের একবার জলপথে বড়সড় নাশকতার মারাত্মক ছক কষছে পাকিস্তানের এই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই বিস্ফোরক তথ্য।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, করাচি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের বুকে অবস্থিত চরনা দ্বীপে আপাতত ডেরা বেঁধেছে জঙ্গিরা। সাধারণ পর্যটকদের ভিড়কে ঢাল বানিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়িয়েই চালানো হচ্ছে অত্যন্ত গোপন ও বিশেষ এই জঙ্গি প্রশিক্ষণ।
‘দাওয়া মেরিন উইং’-এর অধীনে জলতলে যুদ্ধের প্রস্তুতি
রিপোর্ট অনুযায়ী, লস্কর-ই-তৈবার বিশেষ সামুদ্রিক শাখা ‘দাওয়া মেরিন উইং’ বা ‘সাদা-এ-হুরিয়ত’-এর ওপর এই প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গিদের শুধু সাধারণ স্কুবা ডাইভিং-ই নয়, বরং সমুদ্রের তলদেশে বিশেষ অভিযান চালানো, কমব্যাট সুইমিং এবং নিখুঁত সামুদ্রিক যুদ্ধকৌশল শেখানো হচ্ছে। গোয়েন্দাদের দাবি, লস্করের রাজনৈতিক শাখা ‘পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ’-এর সদস্যরাও এই প্রশিক্ষণের পেছনে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। বাইরে থেকে যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ না হয়, সে কারণে প্রশিক্ষণে আসা জঙ্গিদের সাধারণ পর্যটক হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে।
কেন বেছে নেওয়া হল চরনা দ্বীপ?
চরনা দ্বীপটিতে প্রতিদিন অগণিত পর্যটকের আনাগোনা থাকে। পাশাপাশি, এলাকাটি পাকিস্তান নৌসেনার ফায়ারিং রেঞ্জ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে নৌবাহিনীর মহড়া এবং পর্যটকদের নিত্যদিনের ব্যস্ততার আড়ালেই খুব সহজে ও গোপনে এই জঙ্গি প্রশিক্ষণ চালানো সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, সমুদ্রপথে নাশকতার এই ছক লস্করের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মঙ্গলা বাঁধ এলাকায় বিশাল পরিকাঠামো, লঞ্চপ্যাড ও সুইমিং পুল বানিয়ে জঙ্গিদের সামুদ্রিক যুদ্ধের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ভারতীয় সেনার ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেই মূল প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। আর এর পরেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি গোপনে চরনা দ্বীপে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নৌসেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি পুরো পরিস্থিতির উপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজর রাখছে এবং সমুদ্রপথে যে কোনো প্রকার অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।