আইন পড়ার জন্য আর কোনো বয়সের সীমা নেই! ল কোোর্সে ভর্তি নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল বিসিআই

স্বপ্নের কোনো বয়স হয় না, আর আইনজীবী হওয়ার জন্য তো নয়ই! এবার যে কোনো বয়সেই পড়া যাবে আইন বা ল’ (Law)। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ল কোোর্সে ভর্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমার যাবতীয় আইনি বাধা বা নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার তরফে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিকালে বিসিআই-এর আইনজীবী আদালতের কাছে এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার অনুরোধ জানান। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিসিআই-এর এই প্রস্তাব রেকর্ডভুক্ত করেছেন এবং বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া আবেদনটিরও নিষ্পত্তি করেছেন। খুব শীঘ্রই এই নিয়ম দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে।
কী ছিল পুরোনো বয়সসীমার নিয়ম?
এর আগে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার তরফে ল কোর্সে অ্যাডমিশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল।
৫ বছরের ল কোর্স: ভর্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ২২ বছর।
৩ বছরের ল কোর্স: ভর্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ধার্য ছিল ৪৫ বছর।
ফলে অনেক বয়স্ক শিক্ষানুরাগী বা কর্মজীবী ব্যক্তি পরবর্তীতে আইনি পেশায় যুক্ত হতে চাইলে এই নির্দিষ্ট বয়সসীমার বাধার কারণে ল কলেজে ভর্তি হতে পারতেন না।
আইনি লড়াই ও সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান
বিসিআই-এর এই সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন ও মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলাকারীদের মূল প্রশ্ন ছিল— বিসিআই আইন শিক্ষার ক্ষেত্রে ‘সর্বনিম্ন যোগ্যতা’ বা মান নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু তা কি কারও ওপর ভর্তি হওয়ার ‘সর্বোচ্চ বয়সসীমা’ চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার দেয়?
গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে আয়োজিত এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে বিসিআই-কে চরম প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। সুপ্রিম কোর্ট জানতে চেয়েছিল, বিসিআই কি ৫ বছরের ল কোর্সের সর্বোচ্চ বয়সসীমা তুলে নিতে রাজি আছে? এবং এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে বিসিআই-কে দু’সপ্তাহের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
রেসিডেনশিয়াল কোর্সের দোহাই ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
পূর্ববর্তী শুনানিতে বিসিআই-এর পক্ষে আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে, বেশিরভাগ ৫ বছরের ল কোর্সগুলি ‘রেসিডেনশিয়াল’ (আবাসিক) প্রকৃতির হয়। তাই সেখানে তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদের থাকার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই ৩ বছরের ল কোর্সে ৪৫ বছর পর্যন্ত সুযোগ রাখা হয়েছিল, কারণ সেগুলি সচরাচর অনাবাসিক হয়।
তবে বিসিআই-এর এই যুক্তি সোজাসুজি খারিজ করে দেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সব ৫ বছরের ল কোর্স কিন্তু রেসিডেনশিয়াল হয় না। উদাহরন হিসেবে তিনি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)-র ৫ বছরের ল কোর্সের কথা তুলে ধরেন, যা মোটেই আবাসিক নয়। তাই রেসিডেনশিয়াল তকমার দোহাই দিয়ে বয়সসীমার বাধা তৈরি করা কোনো যুক্তিসঙ্গত বা সঠিক মানদণ্ড হতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর মনোভাবের পর অবশেষে পিছু হটে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ল কোর্সে ভর্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা পুরোপুরি বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বিসিআই, যার ফলে এখন যে কোনো বয়সেই ল কলেজে ভর্তি হয়ে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হবে।