আজাদ ময়দানে রান আউট ক্রিকেট ম্যাচ! রণবীরের ছবির সেটে বেজায় ক্ষুব্ধ এমসিএ

চলতি বছরে একাধিক মেগাবাজেট ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও, এখনও পর্যন্ত রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর ২’-এর আয়ের রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি। বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড গড়ে শীর্ষে থাকা এই তারকার পরবর্তী প্রজেক্ট ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডে চরম উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। জয় মেহতার পরিচালনায় মুম্বই শহরের প্রেক্ষাপটে তৈরি হচ্ছে এক রহস্যময় জম্বি সারভাইভাল থ্রিলার ছবি ‘প্রলয়’ (Pralay)। ছবিতে রণবীরের বিপরীতে অভিনয় করছেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী কল্যাণী প্রিয়দর্শন।
তবে ছবি মুক্তির আগেই এর শুটিংকে ঘিরে এক বিরাট বিতর্ক দানা বেঁধেছে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে। বিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু ঐতিহাসিক ‘আজাদ ময়দান’ এবং সেখানে শুটিংয়ের প্রশাসনিক অনুমতি প্রদান।
শুটিংয়ের অনুমতিতেই চটল মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন!
সম্প্রতি ‘মুম্বই মিরর’-এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্র সরকারের স্পোর্টস ডিপার্টমেন্ট ‘প্রলয়’ ছবির মেকারদের আজাদ ময়দানে ৬ ঘণ্টার জন্য শুটিংয়ের অনুমতি দেয়। কিন্তু এই অনুমতি ঘিরেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বা এমসিএ (MCA)।
এমসিএ-র অভিযোগ, রণবীর সিংয়ের ছবির সুবিশাল সেটের কারণে তাদের পূর্বনির্ধারিত অনুর্ধ্ব-১৪ (Under-14) এবং অনুর্ধ্ব-১৬ (Under-16) ইন্টার-স্কুল ক্রিকেট ম্যাচগুলির সূচিতে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে। বাধ্য হয়ে এমসিএ-কে সেই উদীয়মান ক্রিকেটারদের গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলি স্থগিত বা পোস্টপোন করতে হয়েছে।
ইতিহাসে এই প্রথমবার ঐতিহ্যবাহী আজাদ ময়দানে কোন সিনেমার শুটিংয়ের জন্য সরকারি অনুমতি দেওয়া হলো বলে দাবি করা হয়েছে। এমসিএ ইতিমধ্যেই ক্রীড়া দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টরকে চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের কড়া ক্ষোভ উগরে দিয়েছে।
“এটি কোন শুটিং স্পট নয়!” ক্ষুব্ধ নদীম মেমন
এই গোটা ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন এমসিএ অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য নদীম মেমন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “‘প্রলয়’ ছবির শুটিংয়ের জন্য সেখানে বিশাল সেট বানানো হয়েছে, নকল ঘাস বিছানো হয়েছে। আজাদ ময়দান কোনো সিনেমার শুটিং স্পট নয়, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট গ্রাউন্ড যেখানে তরুণ ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের তৈরি করে। শুটিংয়ের কারণে আমাদের চলতি টুর্নামেন্ট বন্ধ রাখতে হলো। এই ক্রিকেটীয় ক্ষতির দায়িত্ব কে নেবে?”
কোন শর্তে অনুমতি পেয়েছিলেন প্রযোজকরা?
স্পোর্টস ডিপার্টমেন্টের তরফে প্রলয় ছবির টিমকে কঠোর কিছু শর্ত সাপেক্ষেই মাঠ ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। যেমন—
মূল ক্রিকেট পিচের ওপর কোনো গাড়ি চালানো যাবে না।
মাঠে কোনো খাবার রান্না, খোঁড়াখুঁড়ি বা ক্ষতিসাধনমূলক কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ এবং বিএমসি (BMC)-র এনওসি (NOC)-র পাশাপাশি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন থেকেও ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে মুচলেকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি ৬ ঘণ্টার শুটিংয়ের জন্য ৪০,০০০ টাকা ভাড়া এবং সমপরিমাণ ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি মানি জমা দিতে হয়েছিল প্রযোজকদের।
তবে সমস্ত প্রশাসনিক নিয়মের চক্কর পেরিয়েও, রণবীর সিংয়ের ছবির সেটের কারণে জুনিয়র ক্রিকেটারদের ম্যাচ বাতিল হওয়ার বিষয়টি সহজভাবে নিচ্ছেন না ক্রিকেটপ্রেমীরা। ফলে ‘প্রলয়’ ছবির শুটিং নিয়ে তৈরি হওয়া এই টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।