ছেলের হাতে বল আর চোখে জল! ছোলে-কুলচে বিক্রেতার ছেলে আজ ভারতের জার্সি গায়ে এশিয়া কাপ কাঁপিয়ে দিলেন

আন্ডার-১৯ এশিয়া কাপে (U19 Asia Cup) বল হাতে ভেলকি দেখালেন ভারতের দুই তরুণ উদীয়মান বোলার। একদিকে ফাস্ট বোলার ঈশান সুদ ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন, তেমনই মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে গোটা টুর্নামেন্টে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন তরুণ স্পিনার অর্জুন রাজপুত (Arjun Rajput)। তবে এই পারফরম্যান্সের নেপথ্যে রয়েছে এক বুকভাঙ্গা লড়াই ও হার না মানা আত্মত্যাগের রোমহর্ষক গল্প, যা যে কারো চোখে জল এনে দেবে। অত্যন্ত কঠিন ও চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে টিম ইন্ডিয়া পর্যন্ত পৌঁছানোর এই পথ একেবারেই সহজ ছিল না। যে যুবকের বাবা রাস্তার ধারে ছোলে-কুলচে বিক্রি করে সংসার চালাতেন, আজ তাঁর ছেলেই ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল নক্ষত্র!
ছেলের স্বপ্ন পূরণে রাস্তার ধারের রেড়ি থেকে বেকারির লড়াই
পাঞ্জাবের জলন্ধরের বাসিন্দা অর্জুন রাজপুতের জীবন সংগ্রামের গল্প সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। তাঁর বাবা হোতি রাম একসময়ে জলন্ধরের রাস্তায় অত্যন্ত কষ্ট করে ছোলে-কুলচের রেড়ি চালাতেন। পরবর্তীতে তিনি একটি ছোট বেকারির দোকান শুরু করেন এবং নিজেই কুলচে বানিয়ে তা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করতে শুরু করেন। অভাবের সংসার হলেও ছেলের ক্রিকেটের প্রতি অগাধ টান দেখে বাবা কোনোদিন নিজের স্বপ্নকে বড় হতে দেননি, বরং সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ছেলেকে ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার পণ করেছিলেন।
মাত্র ৭ বছর বয়স থেকেই কিংবদন্তি ক্রিকেটার হরভজন সিংয়ের আকাদেমিতে ক্রিকেটের ককড়া শেখা শুরু করেন অর্জুন। পরবর্তীতে কোচ বিক্রম সিধু ও অন্যান্যদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় তাঁর খেলার ধার আরও বাড়ে। অসাধারণ প্রতিভার জোরেই তিনি জলন্ধরের ডিএভি কলেজ পড়াশোনা ও খেলার সুযোগ পান। পাঞ্জাব আন্ডার-১৬ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব সামলে তিনি দলকে একাধিক টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিনু মানকাড় ট্রফি এবং কুচ বিহার ট্রফিতেও ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে একটি চোখ ধাঁধানো ডাবল সেঞ্চুরিও রয়েছে তাঁর নামের পাশে।
মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট, এক স্পেলেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন অর্জুন
নেপালের বিরুদ্ধে আন্ডার-১৯ এশিয়া কাপের এই ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখান এই অফ স্পিনার। ইনিংসের ৩৩তম ওভারে তাঁকে বোলিংয়ে আনা হয়। এরপর ৩৭তম ওভারে প্রতিপক্ষের ব্যাটার শচীন ভাটকে এলবিডব্লিউ (LBW) আউট করে নিজের প্রথম উইকেটের দেখা পান তিনি। ঠিক তার পরেই ৩৯তম ওভারে নীতেশ প্যাটেলকে বোলিং করে প্যাভিলিয়নে পাঠান। এরপর শেষদিকে সুশীল রাওয়ালকেও বোলিং আউট করে নেপালের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান অর্জুন।
সব মিলিয়ে ম্যাচে মাত্র ৫.৩ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান খরচ করে ৩টি মারাত্মক উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁর বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো নিখুঁত ‘উইকেট টু উইকেট’ বল করা, যার ফলে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা হাত খুলে রান তোলার কোনো সুযোগই পাননি। শুধু বল হাতেই নয়, প্রয়োজনে দলের হয়ে ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত পারফর্ম করার ক্ষমতা রাখেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। চরম দারিদ্র্যকে জয় করে অর্জুন রাজপুতের এই সাফল্যের গল্প এখন ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।