“আমেরিকানরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন!” মিডটার্মে ট্রাম্পের ভরাডুবির পর তেহরানের বিস্ফোরক বার্তার অর্থ কী?

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ‘মিডটার্ম ইলেকশন’-এ বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে শাসক দল রিপাবলিকান পার্টি। সেই সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক ও জনমতের চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সেনেট এবং হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস—এর দখল চলে গেছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। রিপাবলিকানদের একাধিক শক্ত ঘাঁটিতেও যেভাবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে ট্রাম্পের শাসনকালের শেষ দু’বছর অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাটতে চলেছে। আর আমেরিকার এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই অত্যন্ত বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান।
“আমেরিকানরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন”—ঘালিবাফের হুঙ্কার
মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা পোস্ট করেছেন ইরানের মুখ্য মধ্যস্থতাকারী মহম্মদ বাঘার ঘালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf)। তিনি লিখেছেন, “বিবেকের তাড়না হোক বা ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়—কারণ যাই হোক না কেন, আমেরিকার সাধারণ মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে জোরালো রায় দিয়েছেন। আমরা জনগণের এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে ব্ল্যাকমেলকারীদের চাপে যদি মার্কিন সরকার জনসাধারণের এই ইচ্ছের সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে তারা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারবে যে আমাদের পক্ষ থেকে ‘না’ বলার অর্থ কতটা ভয়ানক এবং তা এক দুঃস্বপ্নের মতো নেমে আসবে।”
ট্রাম্পের নীতি ও যুদ্ধের খেসারত
বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং ইজরায়েলের যৌথ সামরিক সংঘাত শুরুর পর থেকেই গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই সহ একাধিক শীর্ষ নেতার প্রস্থান এবং তার পাল্টা হিসেবে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের আক্রমণ পরিস্থিতিকে এক জটিল মোড়ে নিয়ে দাঁড় করায়। শুধু তাই নয়, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মার্কিন সাধারণ মানুষের পকেটে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জিদ, দেশের অভ্যন্তরে তীব্র অর্থনৈতিক চাপ এবং কঠোর অভিবাসন নীতি—সব মিলিয়ে মিডটার্ম নির্বাচনের ফলে তার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে সমস্ত অঞ্চল থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিপুল সমর্থন কুড়িয়েছিলেন, মাত্র দু’বছরের মাথায় সেই একই এলাকায় ডেমোক্র্যাটদের উল্কার গতিতে উত্থান ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রাম্পের মুখেও পরোক্ষ স্বীকারোক্তি
মিডটার্ম নির্বাচনে দলের এই ভরাডুবির পর খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে, নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের নেপথ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়টি বড় ভূমিকা পালন করেছে। যদিও তিনি নিজের সিদ্ধান্তকে সমর্থনের সুরে দাবি করেছেন যে তিনি যা করেছেন তা দেশের সুরক্ষার জন্যই করেছেন, তবুও ফক্স নিউজের সমীক্ষাই প্রমাণ করেছে যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির জেরে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন কতটা তীব্র ছিল। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের রাজত্বে এই বড় ধাক্কা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে শুরু করেছে।