ডিউটি বিক্রির দিন শেষ? জুনিয়র ডাক্তারদের জন্য আসছে কড়া নিয়ম

জুনিয়র ডাক্তারদের হাজিরা বা ডিউটিতে সামান্যতম গাফিলতিও আর মেনে নিতে নারাজ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সম্প্রতি একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর এবার কড়া পদক্ষেপ করতে চলেসল স্বাস্থ্যভবন। ইন্টার্ন, হাউসস্টাফ এবং পিজিটি (PGT)— সব স্তরের জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টা ও হাজিরা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করতে চালু হতে চলেছে ফেস বেসড বায়োমেট্রিক (Face-based Biometric) ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ঢোকার সময় (In) এবং কাজ শেষ করে বেরনোর সময় (Out)— দু’বারই ফেস আইডি বায়োমেট্রিকের মাধ্যমেই উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে। শুধু তাই নয়, ছুটি নেওয়ার নিয়মাবলীতেও আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন।
কেন এই হঠাৎ কড়াকড়ি?
কয়েক দিন আগেই কলকাতার অন্যতম বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ডিউটি অন্যকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। সেই অনিয়ম ও ফাঁকফোকর পুরোপুরি বন্ধ করতেই এবার প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে ফেস বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথমে কোথায় এবং কীভাবে চালু হবে এই ব্যবস্থা?
প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতার দুটি প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র— এসএসকেএম (SSKM) এবং এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেই এই ফেস বেসড বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতেও এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হবে।
-
ডিজিটাল পোর্টাল ও সরাসরি নজরদারি: রাজ্যস্তরের একটি নির্দিষ্ট বায়োমেট্রিক পোর্টালের মাধ্যমে এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে। এর ফলে চিকিৎসকরা ঠিকমতো ডিউটি করছেন কি না, তার সমস্ত রিয়েল-টাইম হিসাব সরাসরি পৌঁছে যাবে স্বাস্থ্যভবনের কাছে।
-
নতুন পরিচয়পত্র: এই ব্যবস্থার অঙ্গ হিসেবে স্বাস্থ্যভবন থেকে জুনিয়র ডাক্তারদের নতুন করে আইডি কার্ড বা পরিচয়পত্রও প্রদান করা হবে।
-
বিভাগীয় প্রধানদের নজরদারি: জুনিয়র ডাক্তারদের হাজিরা এবং তাঁরা নিয়মিত ডিউটি করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান (HoD) ও ইউনিট হেডরা।
ছুটি নিতে হলে মানতে হবে কড়া নির্দেশিকা
কর্মবিরতি বা ডিউটি ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা রুখতে ছুটির নিয়মেও আনা হয়েছে কড়াকড়ি। স্বাস্থ্যভবনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো জুনিয়র চিকিৎসক ছুটি নিতে চাইলে তাঁকে আগে থেকেই ইউনিট ইনচার্জের মাধ্যমে বিভাগীয় প্রধানকে বিষয়টি জানাতে হবে। শুধু তাই নয়, ঠিক কী কারণে ছুটি নেওয়া হচ্ছে, আবেদনে তার সুনির্দিষ্ট কারণও উল্লেখ করতে হবে। বিভাগীয় প্রধানের অনুমোদন মিললেই কেবল সেই ছুটি মঞ্জুর হবে।
স্বাস্থ্যভবনের এই কঠোর পদক্ষেপে চিকিৎসকমহলে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, স্বচ্ছতা ফেরাতে এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও, এর সঠিক রূপায়ণ কীভাবে হয় সেটাই এখন দেখার।