ভোটের ফল বেরোতেই মাস্কের বিস্ফোরক পোস্ট! “স্পেস লেজারও ডেমোক্র্যাটদের রুখতে পারল না?” ট্রোল না হতাশা?

মার্কিন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। একের পর এক শক্ত ঘাঁটিতে পরাজয়ের মুখ দেখতেই এখন চরম রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে। আর এই হাই-ভোল্টেজ ফলাফলের পর এবার সরাসরি বিরোধীদের লক্ষ্য করে মাঠে নামলেন মার্কিন টেক-জায়ান্ট তথা টেসলা ও স্পেস-এক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক। নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের তোলা বিস্ফোরক দাবিকে সামনে এনে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক চটুল অথচ তোপ দাগা পোস্টে বিরোধীদের কটাক্ষ করেছেন এই কোটিপতি ব্যবসায়ী।

“স্পেস লেজারও কার্যকর হলো না!”—মাস্কের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করার পরপরই নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন মাস্ক। সেখানে রসিকতা করে তিনি লেখেন, “মনে হচ্ছে নির্বাচন প্রভাবিত করার জন্য আমার স্পেস লেজারটি (Space Laser) শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলো না!”

মূলত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে ৩৭ বছর বয়সি তরুণ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্র্যালেরিকোর ঐতিহাসিক জয়ের পরপরই মাস্কের এই তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। উল্লেখ্য, গত ৩০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এই আসন থেকে বিজয়ী হলেন। নির্বাচনে তিনি হারিয়ে দিয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে।

২১ কোটি ডলারের মেগা প্রচার এবং ট্র্যালেরিকোর জয়
পুরো নির্বাচনী লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্র্যালেরিকো দেশের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দুর্নীতি ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠা আর্থিক সংকটকে মূল হাতিয়ার করেছিলেন। প্রতিপক্ষ কেন প্যাক্সটনকে ‘টেক্সাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে কোটিপতিরা সম্পূর্ণ নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটন তাঁর প্রচার চালাতে অনেকাংশেই টিভি ও রেডিওর বিজ্ঞাপনের ওপর বিপুল পরিমাণে ভরসা করেছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়, প্যাক্সটনকে জেতাতে অন্তত ২১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেছিলেন খোদ ইলন মাস্ক। তবে কোটি কোটি টাকার আগ্রাসী প্রচারণা চালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, শেষমেশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর কাছেই নতি স্বীকার করতে হয় প্যাক্সটনকে।

মাস্কের বিশাল সাম্রাজ্য ও ডেমোক্র্যাটদের তোপ
মিডটার্ম নির্বাচনে মাস্কের সরাসরি আগ্রহ ও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই সরব ছিলেন। ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের দাবি, টেক্সাস রাজ্যে মাস্কের সুবৃহৎ বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য থাকার কারণেই তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে রিপাবলিকানদের পেছনে এত টাকা ঢালছেন। ভোটের আগে ট্র্যালেরিকো ও মাস্কের মধ্যে নীতিগত দ্বন্দ্বও চরম রূপ নেয়। ট্র্যালেরিকোকে থামাতে ‘এক্স’-এ মাস্ক দাবি করেছিলেন, ডেমোক্র্যাটরা সীমান্ত নীতি শিথিল করে মার্কিন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে।

এর জবাবে ট্র্যালেরিকোও পালটা খোঁচা দিয়ে এক জনসভায় বলেছিলেন, “গত পাঁচ দশক ধরে কোটিপতিরা দেশের রাজনীতি কিনে নিয়ে অর্থনীতিকে নিজেদের পকেটে পুরছে।” সব মিলিয়ে, ৩০ বছরের পুরোনো ঘাঁটিতে রিপাবলিকান প্রার্থীর পরাজয় এবং তার পরপরই ইলন মাস্কের এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট মার্কিন রাজনীতির সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *