গঙ্গাপাড়ে এবার মুম্বইয়ের মতো মেরিন ড্রাইভ! লন্ডনের তকমা ও ব্যাংকক মডেলে সাজবে বাংলা, বড় সিদ্ধান্ত পুরমন্ত্রীর!

তিলোত্তমা কলকাতা সহ সমগ্র রাজ্যের পুর-পরিকাঠামো ও সৌন্দর্য্যায়নে এক বিরাট ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শহরকে নতুন রূপ দেওয়ার কথা একাধিকবার শোনা গেলেও, এবার একেবারে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনবিসিসি (NBCC)-র সঙ্গে বহুপ্রতীক্সিত মউ (MoU) স্বাক্ষর করল রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে রাজ্যজুড়ে একাধিক মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের এই ব্লু-প্রিন্ট প্রকাশ করেছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া থেকে শুরু করে ট্যাংরার চায়না টাউন— নতুন এই ভাবনায় আমূল বদলে যেতে চলেছে শহরের চেহারা।
এক নজরে রাজ্যের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ:
লন্ডন ও ব্যাংকক মডেলে হকার ও ফুড জোন: শহরের ফুটপাথ ও হকার সমস্যা সমাধানে ব্যাংককের আদলে সুসজ্জিত ‘হকার জোন’ ও ‘ফুড কোর্ট’ তৈরি করা হবে। সেখানে শুধুমাত্র পায়ে হাঁটার পথ বা বিশেষ ‘ফুড স্ট্রিট’ থাকবে, যেখানে কোনও যানবাহন প্রবেশ করবে না। প্রয়োজনে আধুনিক টেন্ট বা ছাদযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, লন্ডনের আদলে আধুনিক টোটো বা পরিবেশবান্ধব ফুড-ট্রাকে কিয়স্ক বানিয়ে স্বনির্ভরতার পথ দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গঙ্গাপাড়ে তৈরি হবে ‘মেরিন ড্রাইভ’: কলকাতা ও হাওড়া দুই প্রান্তের গঙ্গাপাড়কেই মুম্বইয়ের বিখ্যাত ‘মেরিন ড্রাইভ’-এর ধাঁচে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়া হবে। এই মেগা প্রজেক্টটি রূপায়িত হলে রাজ্যের পর্যটনে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে বলে আশাবাদী পুরমন্ত্রী।
বস্তি উন্নয়ন ও স্থায়ী আবাসন: দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মডেল অনুসরণ করে রাজ্যের বস্তি এলাকাগুলির আমূল পরিকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে। বস্তি ভাঙার বদলে সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য স্থায়ী ও সুসংহত আবাসন বা ফ্ল্যাট তৈরি করে দেওয়া হবে।
কলকাতা ও চায়না টাউনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ: ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্ট্রিট বইপাড়াকে আধুনিক রূপ দেওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতার ঐতিহাসিক চায়না টাউনকে চিনের স্থাপত্য ও কৃষ্টির ধাঁচে হুবহু নতুনভাবে সাজানো হবে। মন্ত্রীর কথায়, “কলেজ স্ট্রিটের মতো বইপাড়া যেমন বিশ্বে বিরল, ঠিক তেমনই তিলোত্তমার চায়না টাউনও গোটা ভারতের মধ্যে অনন্য।”
পাবলিক টয়লেট ও মায়াপুরের বিশ্বমানের পরিকাঠামো: সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার কথা মাথায় রেখে সমগ্র বাংলা জুড়ে অত্যাধুনিক ‘পাবলিক টয়লেট’ বা শৌচাগার নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে, বৈষ্ণবধাম নবদ্বীপ ও মায়াপুরকে কেন্দ্র করে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার।