দীপাবলিতেও স্বস্তি নেই দিল্লিতে! বিষাক্ত ধোঁয়াশায় শ্বাসরোধকর পরিস্থিতি, বাতাসের মান ছুঁলো খাদের কিনারা!

দীপাবলির উৎসবে যখন দেশজুড়ে মেতে ওঠার প্রস্তুতি চলছে, তখন দেশের রাজধানী দিল্লি ও তার সংলগ্ন এনসিআর অঞ্চলে বিরাজ করছে এক চরম ভয়াবহ ও শ্বাসরোধকর পরিস্থিতি। দীপাবলির আলোতেও দূষণের বিষাক্ত কালো ছায়া কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দিল্লির বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত ধূলিকণা ও ধোঁয়াশার মাত্রা এমনই বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাতাসের গুণমান সূচক বা একিউআই (AQI) ক্রমাগত ‘অত্যন্ত খারাপ’ থেকে ‘ভয়াবহ’ শ্রেণিতে অবস্থান করছে। প্রশাসনিক স্তরে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও দূষণের মাত্রা কমার কোনো ইতিবাচক সঙ্কেত দেখা যাচ্ছে না, যা দিল্লির কোটি কোটি বাসিন্দার জনস্বাস্থ্যকে এক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
পরিবেশ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শহরের গড় বায়ু গুণমান সূচক রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬৬। তবে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি এর চেয়েও বহুগুণ আশঙ্কাজনক। দিল্লির অন্তত ২২টি আলাদা আলাদা সেন্টারে একিউআই ৪০০-এর চরম মান অতিক্রম করে গিয়েছে। সবচেয়ে করুণ অবস্থা আইআইটি দিল্লি সংলগ্ন এলাকার, যেখানে একিউআই রেকর্ড হয়েছে ৪৪২। এছাড়া পাঞ্জাবি বাগে ৪৩৩, বিবেক বিহারে ৪২৭, জাহাঙ্গিরপুরীতে ৪২১ এবং রোহিনীতে ৪১৮ রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি বাওয়ানা (৪১১), ডিটিইউ (৪০৮), নারেলা (৪০৮) ও আলিপুরে (৪০২) বাতাসের মান মারাত্মক প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করেছে। এনসিআর-এর গুরুগ্রাম (৩৫৫) ও ফরিদাবাদেও (৩৪৭) পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান বা জিআরএপি (GRAP)-এর তৃতীয় পর্যায়ের কঠোর বিধিনিষেধ সমগ্র দিল্লি-এনসিআর জুড়ে কার্যকর করেছে। এই নিয়মের অধীনে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ এবং কারখানা ভাঙার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ধুলোবালি ও কার্বন নির্গমন কমাতে পুরনো বিএস-৩ পেট্রল ও বিএস-৪ ডিজেলচালিত যান চলাচলে কঠোর আইনি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে পাথর ভাঙার কারখানা, খনি ও ইটভাটার কাজ। রাস্তাঘাট ধুলোমুক্ত রাখতে ক্রমাগত জল ছিটানো হচ্ছে এবং বাইরের রাজ্যের বিএস-৬ বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানিহীন ডিজেল বাসের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিষাক্ত এই আবহাওয়ার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। শিশুদের ফুসফুসকে এই বিষাক্ত বাতাসের হাত থেকে রক্ষা করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে সশরীরে পঠনপাঠন বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাসের পথ বেছে নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীপাবলির মুখে রাজধানীর এই দমবন্ধ পরিবেশ নাগরিক জীবনে এক চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।