ইজরায়েলকে আর এক ডলারও নয়! মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাঝেই ট্রাম্পের ধামাকা ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল!

আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ। আর তারই মধ্যে ইজরায়েলকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ সাল থেকে ইজরায়েলকে প্রতি বছর ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল আর্থিক অনুদান দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে সরাসরি আর্থিক বা অনুদানভিত্তিক সাহায্য বন্ধ হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অন্যতম বিশ্বস্ত এই মিত্র দেশকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করার পথ খোলাই রাখছে আমেরিকা।

কেন এই নীতিগত পরিবর্তন? ট্রাম্পের যুক্তি
এমন বড়সড় নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, মার্কিন অর্থ সাহায্য ছাড়াই নিজেদের অর্থনীতি ও শক্তিশালী সামরিক পরিকাঠামো সামলানোর মতো যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে ইজরায়েল। তাই আমেরিকার করদাতাদের অর্থ থেকে বিপুল পরিমাণ এই সহায়তার আর কোনও যৌক্তিকতা নেই।

সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিকনফারেন্স সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ফাঁস করেন যে— এই বিষয়টি প্রথম তাঁর নজরে এনেছিলেন খোদ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গত দুই বছর ধরে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কিছু গোপনীয় আলোচনা চলছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা ও মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপ
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এক বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইজরায়েলকে লাগাতার কোটি কোটি ডলারের সামরিক অনুদান দেওয়া নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘ দিন ধরে প্রবল বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীরা এটিকে নির্বাচনী অন্যতম প্রধান ইস্যু করে তুলেছেন— যার মধ্যে অন্যতম মিশিগান থেকে সেনেট নির্বাচনের লড়াইতে থাকা আবদুল এল-সায়েদ।

সামরিক সহায়তার প্রকৃতি তুলে ধরে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, “আপনারা বিষয়টিকে সরাসরি নগদ অর্থ বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ— দুই ভাবেই দেখতে পারেন। আমরা ওদের প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সাহায্য দিই। কিন্তু বাস্তবে ওদের আর এই অনুদানের প্রয়োজন নেই। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিজেই আমার সঙ্গে বহুবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। গত দু’বছর ধরেই আলোচনা চলছিল, কারণ অঙ্কটা সত্যিই বিশাল।” তবে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক খাতে আমেরিকার কোটি কোটি ডলার ব্যয়
আমেরিকার এই অভাবনীয় ঘোষণার আগে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় রেকর্ড অর্থ ঢেলেছে ওয়াশিংটন। সংবাদসংস্থা এপি-র এক রিপোর্টে জানা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইজরায়েলকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সরাসরি সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

এ ছাড়াও ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ওয়াটসন স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’-এর একটি স্বাধীন গবেষণায় উঠে এসেছে, বিগত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত সামরিক নজরদারি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে হয়েছে মার্কিন কোষাগারকে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই অনুদান বন্ধের সিদ্ধান্ত আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা করল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *