মা লক্ষ্মীর বাহন কীভাবে হল অশুভ পাখি প্যাঁচা? জানলে চমকে উঠবেন পৌরাণিক এই গোপন রহস্যে!

দীপাবলি ও লক্ষ্মীপুজোর দিন মা লক্ষ্মীর পাশাপাশি সমান গুরুত্ব পান তাঁর বাহন প্যাঁচা। কিন্তু সমাজের অনেকের কাছেই এই পাখিটি অশুভ বা দুর্ভাগ্যের প্রতীক। বাড়ির ছাদে বা কার্নিশে প্যাঁচা বসলে অনেকেই ভয় পেয়ে তাড়িয়ে দেন, কারণ অনেকের মতেই এটি বিপদের লক্ষণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো— যাকে সমাজ এত দিন ধরে অশুভ বলে মনে করে এসেছে, তিনি কীভাবে মা লক্ষ্মীর মতো সম্পদের দেবীর বাহন হয়ে উঠলেন? এর পিছনে রয়েছে এক দারুণ পৌরাণিক গল্প।
কী বলছে পুরাণ?
পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, সে অনেক কাল আগের ঘটনা। একদিন স্বর্গলোকের সমস্ত দেবদেবী এবং পশু-পাখিরা মা লক্ষ্মীর কাছে হাজির হন। প্রত্যেকের একটাই মাত্র ইচ্ছা— সম্পদের দেবীর বাহন হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা। এত প্রার্থীর ভিড়ে দেবী লক্ষ্মী পড়ে যান মহা ফাঁপড়ে। তবে কাউকেই তিনি সরাসরি নিরাশ না করে একটি বিশেষ শর্ত রাখেন।
দেবী ঘোষণা করেন, আসন্ন কার্তিক অমাবস্যার রাতে তিনি পৃথিবীতে মর্ত্যভ্রমণে আসবেন। সেদিন ঘুটঘুটে অন্ধকারে যে সবার আগে তাঁকে দেখতে পাবে, তিনিই হবেন দেবীর স্থায়ী বাহন।
যেভাবে বাজিমাত করল প্যাঁচা
অবশেষে ঘনিয়ে এল সেই কার্তিক অমাবস্যার রাত। শর্ত অনুযায়ী দেবী লক্ষ্মী পৃথিবীতে পা রাখলেন। অমাবস্যার সেই রাতটি ছিল নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে ঢাকা, চারদিকে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছিল না। বাকি সমস্ত পশু-পাখি যখন অন্ধকারে পথ হাতড়াচ্ছে, তখন প্রকৃতির নিয়মে প্যাঁচার তীক্ষ্ণ চোখ ঠিক অন্ধকারে দেখতে পায়!
সেই গাঢ় অন্ধকারের মধ্যেও সে সবার আগে দেবীকে দেখতে পেয়ে যায় এবং বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে মা লক্ষ্মীর কাছে পৌঁছে বাহন হওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করে। প্যাঁচার এই একাগ্রতা, বিশ্বস্ততা এবং রাতের অন্ধকারেও স্পষ্ট দেখার ক্ষমতা দেখে দেবী অত্যন্ত খুশি হন। আর সেই রাতেই তিনি প্যাঁচাকে নিজের চিরস্থায়ী বাহন হিসেবে বেছে নেন।
প্যাঁচাকে নিয়ে মানুষের ভয় ও আধ্যাত্মিক সত্য
প্যাঁচা মূলত নিশাচর পাখি। তার বড় বড় গোল চোখ, নিঃশব্দে ওড়ার ক্ষমতা এবং রাতের বেলা হঠাৎ অদ্ভুত ডেকে ওঠার স্বভাব মানুষের মনে যুগ যুগ ধরে এক অজানা ভয়ের সৃষ্টি করেছে। প্রাচীনকালে মানুষ রাতের অন্ধকারকে ভয় পেত, আর সেই ভয় থেকেই প্যাঁচাকে অশুভ বা বিপদের লক্ষণ বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়।
তবে আধ্যাত্মিক দিক থেকে এর গভীর অর্থ রয়েছে। প্যাঁচা যেমন গভীর অন্ধকারের মধ্যেও নিজের পথ চিনে নিতে পারে, তেমনই মানুষের জীবনে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ আসার পর সে যেন অহংকারে অন্ধ হয়ে না যায় এবং নিজস্ব বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে সঠিক রাস্তাটি বেছে নিতে পারে— প্যাঁচা মূলত তারই প্রতীক।
দীপাবলিতে প্যাঁচার গুরুত্ব
ঠিক এই কারণেই দীপাবলির পবিত্র রাতে প্যাঁচা দেখতে পাওয়া অত্যন্ত শুভ লক্ষণ বলে মনে করা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দীপাবলির রাতে প্যাঁচার দেখা মিললে সংসারে সারা বছর মা লক্ষ্মীর অকৃপণ আশীর্বাদ বজায় থাকে এবং আর্থিক অনটন দূর হয়। তাই লোকমুখে প্রচলিত কুসংস্কারের বশে প্যাঁচা দেখলে ভয় পেয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে পরিবেশিত সমস্ত তথ্য প্রচলিত ধর্মীয় কাহিনি এবং লোকবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর নিজস্ব কোনও বৈজ্ঞানিক সত্যতা বা প্রামাণিকতা নেই।)