হাজারেরও বেশি হোটেল বন্ধ হওয়ার পর বড় পদক্ষেপ! মুচলেকা দিলেই কি খুলবে শহরের গেস্ট হাউস? তুঙ্গে চর্চা

তিলোত্তমার বুকে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনা এখনও ভোলেনি শহরবাসী। ওই ঘটনার পর শহরের হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই অ্যাকশনে নেমেছিল কলকাতা পুরনিগম, কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য দমকল বিভাগ। অডিট কমিটির অভিযানে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও নির্মাণ সংক্রান্ত গরমিল ধরা পড়ায় রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল শহরের এক হাজারেরও বেশি হোটেল ও গেস্ট হাউস। তবে এবার সেই অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে নতুন আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ী ও কর্মীরা।

আদালতের তোপ ও পুরসভার সমাধান সূত্র: দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন হোটেল মালিকেরা এবং কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েন হাজার হাজার কর্মচারী। এই পরিস্থিতিতে বন্ধ হোটেলগুলি দ্রুত খোলার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের প্রতিনিধি রাজীব শেঠিয়া জানিয়েছেন, আদালতের রায় তাঁদের পক্ষেই এসেছে এবং ব্যবসা ফের চালুর বিষয়ে ইতিবাচক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশের পর পুরসভা, পুলিশ ও দমকল আধিকারিকদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো আপস না করেই ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে একটি বিশেষ খসড়া নীতি বিবেচনা করছে।

📋 কী এই বিশেষ ‘মুচলেকা নীতি’ ও ১২০ দিনের ছাড়পত্র?

পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি হোটেল মালিক ব্যবসা ফের চালু করার জন্য বিশেষ কমিটির কাছে আবেদন জানিয়েছেন। যার মধ্যে প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলায় ইতিমধ্যেই ১৫টিরও বেশি হোটেলকে ছাড়পত্র বা সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

বাকি হোটেলগুলির ক্ষেত্রে পুরসভা একটি অভিনব শর্তের কথা ভাবছে:

  • মুচলেকা প্রদান: হোটেল ও গেস্ট হাউস মালিকদের থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি বা মুচলেকা নেওয়া হবে।

  • ১২০ দিনের ডেডলাইন: প্রাথমিক অনুমোদন হিসেবে প্রায় ১২০ দিন (৪ মাস) সময় দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে যাবতীয় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে এবং নির্মাণের সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করতে হবে।

  • পুনরায় পরিদর্শন: ১২০ দিনের মেয়াদের পর আধিকারিকেরা ফের সরজমিনে পরিদর্শনে যাবেন। মুচলেকায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হলে তবেই মিলবে স্থায়ী ছাড়পত্র।

⚖️ নিরাপত্তা ও ব্যবসার ভারসাম্য রক্ষায় বড় পরীক্ষা

কলকাতা পুরনিগমের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “বন্ধ হয়ে থাকা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির আবেদন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে একটি একটি করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা কোনোভাবেই অগ্নিনিরাপত্তার প্রশ্নে ছাড় দেব না। তবে একই সঙ্গে শহরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কীভাবে ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া যায়, সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

আদালতের রায় ও পুরসভার এই নমনীয় পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শহরের হোটেল শিল্পে অবশেষে স্বস্তির আবহাওয়া ফিরতে চলেছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *