দিল্লির বাতাসে মারাত্মক বিষালু ছোবল! একিউআই ৩২৪ পার হতেই জরুরি ভিত্তিতে জারি ‘গ্র্যাপ-২’, চূড়ান্ত বিপদে এনসিআর

আলোকের উৎসব দীপাবলির আগেই যেন মারণ বিষের চাদরে ঢাকা পড়ল দেশের রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর (NCR) অঞ্চল। সোমবার দিল্লির বাতাসে বায়ুর গুণমান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) মারাত্মক হারে লাফিয়ে ৩২৪ পয়েন্ট ছুঁতেই পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ বিভাগে গিয়ে পৌঁছায়। বাতাসে ক্ষতিকর সূচকের এই তড়িৎ বৃদ্ধির পরেই গোটা রাজধানী অঞ্চল জুড়ে অবিলম্বে ‘গ্র্যাপ-২’ (Graded Response Action Plan Phase-II) বা দ্বিতীয় পর্যায়ের চরম বিধিনিষেধ জারি করার বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল প্রশাসন।
গ্র্যাপ-১ থেকে গ্র্যাপ-২: বিধিনিষেধের কড়া জালে দিল্লি: এর আগে গত ২১ অক্টোবর বাতাসে একিউআই-এর মাত্রা ২৪৪ স্পর্শ করতেই প্রাথমিকভাবে ‘গ্র্যাপ-১’ কার্যকর করা হয়েছিল। সেই বিধিনিষেধের আওতায় সিএনজি ও বৈদ্যুতিক গণপরিবহন ব্যবহার বাড়ানো, রাস্তার খাবার দোকানগুলিতে কয়লা বা কাঠ পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা এবং পুরনো পেট্রোল ও ডিজেলচালিত যানবাহনে রাশ টানা হয়েছিল।
তবে বাতাসের মানের দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার ‘গ্র্যাপ-২’ প্রয়োগের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এর আওতায় নেওয়া হচ্ছে কড়া পদক্ষেপ:
-
ভ্যাকুয়াম সুইপিং ও জল ছেটানো: ধূলোবালি নিয়ন্ত্রণে যান্ত্রিকভাবে রাস্তা পরিষ্কার ও প্রতিদিন একাধিকবার জল ছেটানো হবে।
-
ব্যক্তিগত গাড়িতে রাশ: রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে একধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পার্কিং ফি।
-
গণপরিবহনে জোর: মেট্রো এবং পরিবেশবান্ধব সিএনজি বাসের ট্রিপ সংখ্যা একধাক্কায় অনেকটা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে মানুষ নিজস্ব গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহনে যাতায়াত করতে উদ্বুদ্ধ হন।
🍂 নেপথ্যে এল নিনো ও খড় পোড়ানোর জোড়া বিপদ!
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার শেষ দিকের টানা বৃষ্টির কারণে অক্টোবরের শুরুতে দিল্লির আকাশ কিছুটা পরিষ্কার ও শ্বাস নেওয়ার উপযোগী ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ‘এল নিনো’ (El Nino)-র প্রভাব এবং বাতাসের গতি একধাক্কায় মারাত্মক কমে যাওয়ায় দূষিত কণাগুলি বাতাসে আটকে পড়ছে।
তার ওপর, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে এবার ধানের ফসল কাটার মরশুম দেরিতে শুরু হওয়ায় খড় পোড়ানোর (Stubble Burning) মূল সময়টি অক্টোবর মাসের শেষ এবং নভেম্বরের শুরুতে পিছিয়ে গিয়ে ধাক্কা দিয়েছে। ফলে হিমেল শান্ত বাতাসে খড় পোড়ানোর সেই বিষাক্ত ধোঁয়া যুক্ত হয়ে দিল্লির আকাশকে নরককুণ্ডে পরিণত করেছে।
পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, বায়ুর মান যদি ৩৫০ বা ৪০০ পার করে আরও বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছায়, তবে আগামী দিনে বিএস-৩ পেট্রোল ও বিএস-৪ ডিজেল গাড়ি চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এমনকি আগের বছরের মতো জোড়-বিজড় (Odd-Even) গাড়ি চালানোর কড়া নিয়ম বা ‘গ্র্যাপ-৩’ ও ‘গ্র্যাপ-৪’-এর মতো লকডাউন-সম পদক্ষেপও গ্রহণ করতে বাধ্য হবে প্রশাসন।
🎆 শর্তসাপেক্ষ সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
তীব্র ধোঁয়াশা ও আশঙ্কাজনক বায়ুদূষণের আবহেই সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি-এনসিআরে আগামী ৭ ও ৯ নভেম্বর নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি পোড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। ওই দু’দিন কেবল সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি ফাটানো যাবে। তবে হাসপাতাল, নার্সিংহোম, বৃদ্ধাশ্রম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সাইলেন্স জোনের ৩০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাকি সমস্ত সাধারণ বাজির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকছে, আর এই শর্তাবলী অমান্য করলে হতে পারে জেল-জরিমানাও!