“লাল সন্ত্রাস মুক্ত ছত্তিশগড়! আগামী ১০ বছরে বদলে যাবে ভাগ্য,” পর্যটনের মহা-বিপ্লব নিয়ে বিরাট ভবিষ্যৎবাণী অমিত শাহের

নকশালবাদের কালো মেঘ কেটে ছত্তিশগড়ে এখন শান্তি ও নিরাপত্তার এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নকশাল সৃষ্ট হিংসার বাধা দূর হওয়ায় ছত্তিশগড়ে পর্যটন বিকাশের বিপুল সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অপার জলপ্রপাত, ঘন জঙ্গল, সমৃদ্ধ আদিবাসী সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে ভরপুর ছত্তিশগড় আগামী দিনে গোটা দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন রাজ্য হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা করবে।

নকশালমুক্ত বস্তারে কর্মসংস্থান ও শিল্পের জোয়ার: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিনের নকশাল সহিংসতার কারণে বস্তারসহ রাজ্যের একাধিক অঞ্চলের বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা এতকাল সেভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। কিন্তু আজ সেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার সুদৃঢ় পরিবেশ তৈরি হওয়ায় পর্যটন, শিল্প, বাণিজ্য এবং স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের এক নতুন সম্ভাবনার জন্ম হচ্ছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে চিত্রকূট জলপ্রপাত, তীর্থগড় জলপ্রপাত, কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক, মা দন্তেশ্বরী মন্দির, মা বামলেশ্বরী মন্দির এবং বিশ্ববিখ্যাত ‘বস্তার দশেরা’-র মতো সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে কেবল দেশীয় পর্যটকই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও পর্যটকদের আকর্ষণ করার বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মেধাবী যুবকদের হাতে কাজ এবং আদিবাসী অর্থনীতির রূপান্তর: অমিত শাহ জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যে পর্যটনের এই প্রসার স্থানীয় যুবকদের হাতে কর্মসংস্থান তুলে দেবে। এর ফলে ছত্তিশগড়ের হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জন্য নতুন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার উন্মুক্ত হবে, যা দিনশেষে গ্রামীণ ও আদিবাসী অর্থনীতিকে বহুগুণ শক্তিশালী করবে।

অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একাধিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য অসামান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করার পাশাপাশি ‘মহাতারী বন্দন যোজনা’-র ৩৩তম কিস্তির অর্থ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

“আগামী ১০ বছরে বদলে যাবে চিত্র”—মোদী-সাই সরকারের সংকল্প: ছত্তিশগড়ের সাম্প্রতিক রূপান্তর প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “ছত্তিশগড় এখন ভয় ও সহিংসতার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন পথ ধরে এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাইয়ের সক্রিয় প্রচেষ্টায় রাজ্যে আজ নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একসময় বলা হতো ছত্তিশগড়ের ভূমি উর্বর কিন্তু মানুষ গরীব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর সংকল্প অনুযায়ী, আগামী দশ বছরে ছত্তিশগড়ের ভূমির পাশাপাশি এর মানুষও অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সুখী হবে।”

বিশ্বমঞ্চে ছত্তিশগড়ের সংস্কৃতি ও অটলজির অবদান স্মরণে: ছত্তিশগড়ের লোকসংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য এবং পন্থী, পাণ্ডবাণী, রাউত নাচা, কর্ম ও শৈল নৃত্যের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, বস্তার পান্ডুম এবং বস্তার অলিম্পিকের মাধ্যমে আদিবাসী ক্রীড়া প্রতিভা ও রন্ধনপ্রণালীকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২০০০ সালে ছত্তিশগড় রাজ্য গঠন ছিল অটলজির দূরদৃষ্টিরই ফল। অটলজি যে রাজ্যটি তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক নতুন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।”

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *