মতুয়াদের জন্য ৫০ কোটি টাকা ও ঠাকুরনগরকে পুরসভার ঘোষণা! মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন শুভেন্দু!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক এক ভূমিকা পালন করে আসছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে সেই মতুয়া সমাজের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় একাধিক মেগা ঘোষণা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঠাকুরনগরকে পূর্ণাঙ্গ পুরসভা বা ‘Municipality’ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি মতুয়াদের সামাজিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন তিনি।

সেই সাথে সিএএ (CAA) নাগরিকত্ব প্রদান, প্রবীণদের পেনশন, স্বাস্থ্য বীমা এবং ঠাকুরবাড়ির নতুন মন্দির নির্মাণ নিয়েও বড় সড় রোডম্যাপ সামনে এনেছেন তিনি।

ঠাকুরনগর হবে পুরসভা, তৈরি হবে ৫০ কোটির মেগা ফান্ড
মতুয়া ধর্মাবলম্বীদের প্রধান পুণ্যভূমি ঠাকুরনগরকে নিয়ে এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী বাজেটে ঠাকুরনগরকে একটি পূর্ণাঙ্গ পুরসভায় (Municipality) রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি মতুয়া সমাজের সার্বিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নতির জন্য রাজ্য বাজেটের আওতায় বা বিশেষ তহবিলে ৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ বরাদ্দের কথা বলেন তিনি। ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির নির্মাণ ও সৌন্দর্য্যায়নেও বিশেষ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

CAA নাগরিকত্ব ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় বার্তা
মতুয়া সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি সিএএ (Citizenship Amendment Act) কার্যকর করা ও দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদান প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি যোগ্য মতুয়া পরিবারকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী নাগরিকত্ব দিতে কেন্দ্র ও বিজেপি নেতৃত্ববদ্ধ প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর পাশাপাশি সাধারণ মতুয়া পরিবারগুলোর জন্য একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়:

অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana): দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্য বীমা (Health Insurance): মতুয়া পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্নত ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা।

বার্ধক্য ভাতা (Old Age Pension): প্রবীণ নাগরিকদের জন্য মাসিক পেনশন ব্যবস্থা জোরদার করা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে তীব্র আক্রমণ
নিজের বক্তব্যে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, মতুয়াদের এতদিন শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু তাঁদের মৌলিক অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (যিনি বর্তমানে আর্থিক অনিয়ম ও খাদ্য দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির হেফাজতে রয়েছেন) এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, রেশনের চাল থেকে শুরু করে নানা সরকারি সুবিধায় অনিয়ম করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে এতদিন বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে।

মতুয়া সমাজের উন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষায় এই মেগা ঘোষণা রাজ্য রাজনৈতিক অলিন্দে এক নতুন সমীকরণ ও আলোচনার জন্ম দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *